ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: যশোর জেলা
যশোর জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের কিছুটা বেশি প্রধান্য থাকলেও সেখানে বরাবরই তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। দেশে বিগত দিনে অনুষ্ঠিত মোটামুটি স্বচ্ছ (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) নির্বাচনগুলোর ফলাফলে তাই দেখা গেছে। তবে অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় পাল্টে গেছে জেলার ভোটের চিত্রও। এই জেলায় এবার লড়াই হবে মূলতো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক যশোর জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
যশোর-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৮৫): যশোর জেলার শার্শা উপজেলা নিয়ে যশোর-১ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোঃ বক্তিয়ার রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নূর হুসাইন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে তবিবর রহমান সর্দার, ১৯৯৬ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে তবিবর রহমান সর্দার, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আলী কদর ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৮৬): যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নিয়ে যশোর-২ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) থেকে টেলিভিশন প্রতীকে মোঃ শামছুল হক, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মোঃ মেহেদী হাসান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে মই প্রতীকে মোঃ ইমরান খান, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে মো জহুরুল ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোছাঃ সাবিরা সুলতানা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো ইদ্রিস আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে ১৯৮৬ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মকবুল হোসেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে রফিকুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে রফিকুল ইসলাম, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৮৭): যশোর জেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত যশোর সদর উপজেলা নিয়ে যশোর-৩ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো আব্দুল কাদের, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে মোঃ রাশেদ খান, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মোঃ খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা থেকে চশমা প্রতীকে মো নিজামদ্দিন অমিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাত পাখা প্রতীকে মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে রওশন আলী, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আলী রেজা রাজু, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে তরিকুল ইসলাম ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে খালেদুর রহমান টিটো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-৪ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৮৮): জেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নসহ বাঘারপাড়া উপজেলা ও অভয়নগর উপজেলা নিয়ে যশোর-৪ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে এম, নাজিম উদ্দীন-আল্-আজাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো গোলাম রছুল, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রকেট প্রতীকে সুকৃতি কুমার মন্ডল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মতিয়ার রহমান ফারাজী, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো জহুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলিস থেকে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে মাও আশেক এলাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শাহ হাদিউজ্জামান, ১৯৯১ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শাহ হাদিউজ্জামান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শাহ হাদিউজ্জামান, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম এম আমীন উদ্দিন ও ২০০৮ সালে রণজিত কুমার রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-৫ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৮৯): যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৫ আসনটি।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে রশীদ আহমাদ রশীদ আহমাদ, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মো কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে গাজী এনামুল হক, স্বতন্ত্র কলস প্রতীকে শহীদ মো ইকবাল হোসেন ও জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে এম, এ হালিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসনে ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে খান টিপু সুলতান, ১৯৯৬ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে খান টিপু সুলতান, ২০০১ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে খান টিপু সুলতান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-৬ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৯০): যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা নিয়ে যশোর-৬ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো মোক্তার আলী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীকে মো মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ আবুল হোসেন আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো শহিদুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে জি, এম, হাসান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুল হালিম, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক ও ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ আব্দুল ওহাব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে