ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গাইবান্ধা জেলা
গাইবান্ধা জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগ এর একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। গাইবান্ধা জেলা গঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। এই জেলায় আসন সংখ্যা মোট ৫ টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই পুরো জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধা ১ ( সংসদীয় আসন ২৯): গাইবান্ধা-১ আসনটি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯৩০৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৯৩,৯৫২ জন এবং নারী ভোটার ১,৯৯,০৯৩ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ১ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী আট জন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে মোছাঃ ছালমা আক্তার, স্বতন্ত্র থেকে মোঃ মোস্তফা মহসিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোঃ মাজেদুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পার্টি থেকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে পরমানন্দ দাস, আমজনতার দল থেকে মোঃ কওছর আজম হান্নু এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোঃ রমজান আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হাফিজুর রহমান প্রামাণিক বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আসন শূন্য থাকলেও জুনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে ওয়াহিদুজ্জামান সরকার নির্বাচিত হন।২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আবদুল আজিজ মিয়া জয়ী হন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুল কাদের খান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এবং ২০১৭ সালের উপ-নির্বাচনে গোলাম মোস্তফা আহমেদ নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার বিজয়ী হন।
গাইবান্ধা-২ (সংসদীয় আসন ৩০): গাইবান্ধা-২ আসনটি গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩৮১৯৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৮৭,২১৪ জন এবং নারী ভোটার ১,৯৪,৭৫০ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৬ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে মোট সাত প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জনতার দল থেকে মোঃ শাহেদুর জাহান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোঃ আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ আব্দুর রশীদ সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোঃ আনিসুজ্জামান খান বাবু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মিহির কুমার ঘোষ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে আহসানুল হাবীব সাঈদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন
এই আসনে ১৯৮৬ সালে আব্দুর রউফ মিয়া বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে আজগার আলী খান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আব্দুর রশীদ সরকার জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সাইফুল আলম সাজা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবারও জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুর রশীদ সরকার জয়ী হন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লুৎফর রহমান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাহাবুব আরা বেগম গিনি বিজয়ী হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ সারোয়ার কবির নির্বাচিত হন।
গাইবান্ধা ৩( সংসদীয় আসন ৩১): গাইবান্ধা-৩ আসনটি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলা ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট সংখ্যা ৪৭৪৮৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২৩২৮৪৯ জন এবং নারী ভোটার ২৪২০৩৩ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৭ জন।
প্রার্থী: আসনে নির্বাচনে এই আসন থেকে মোট দশ প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, মোঃ আব্দুল্লাহ আদিল থেকে মোঃ আব্দুল্লাহ আদিল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোঃ মনজুরুল হক থেকে মোঃ মনজুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোঃ এ টি এম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মোঃ সুরুজ মিয়া, স্বতন্ত্র থেকে মোঃ আজিজার রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মোঃ মোছাদ্দিকুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টি থেকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ফজলে রাব্বি চৌধুরী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোখলেছুর রহমান নির্বাচিত হন, কিন্তু জুনে পুনরায় জাতীয় পার্টি থেকে ফজলে রাব্বি চৌধুরী জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ফজলে রাব্বি চৌধুরী ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ২০০৮ সালে আবারও জাতীয় পার্টি থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইউনুস আলী সরকার জয়ী হন। ২০২০ সালের উপ-নির্বাচনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন।
গাইবান্ধা ৪ (সংসদীয় আসন ৩২): গাইবান্ধা-৪ আসনটি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩৯৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২১৬৯৬৫ জন এবং নারী ভোটার ২২২৯৫৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৬ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে মোট ছয় প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোঃ আব্দুর রহিম সরকার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মোঃ আতোয়ারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র থেকে মোঃ আব্দুর রউফ আকন্দ, জাতীয় পার্টি থেকে কাজী মোঃ মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোহাম্মদ শামীম কায়সার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে আতাউর রহমান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আবারও লুৎফর রহমান চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আব্দুল মান্নান মন্ডল নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে পুনরায় লুৎফর রহমান চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আব্দুল মোত্তালেব আকন্দ জয়ী হন। ২০০৬ সালের উপ-নির্বাচনে একই দলের শামীম কায়সার লিংকন আসনটি ধরে রাখেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোয়ার হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জয়ী হন। ২০১৮ সালে আবারও মনোয়ার হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে জয়ী হন।
গাইবান্ধা ৫( সংসদীয় আসন ৩৩): এটি গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলা ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৬২৮৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৮০,৬১৭ জন এবং নারী ভোটার ১,৮২,২৬৯ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ১ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে নয় জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোঃ ফারুক আলম সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ, স্বতন্ত্র থেকে নাহিদুজ্জামান নিশাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোঃ আজিজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র থেকে হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে মোছাঃ রাহেলা খাতুন, স্বতন্ত্র থেকে এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে শ্রী নিরমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির ফজলে রাব্বী মিয়া বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিয়র রহমান টুকু নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের রওশন এরশাদ নির্বাচিত হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফজলে রাব্বী মিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন। ২০২৩ সালের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান রিপন নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবার জয়ী হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে