Views Bangladesh Logo

বন্যার পানির নিচে বাঘার ১৩ গ্রাম, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মধ্যে ১৩টিই প্লাবিত হয়েছে। আতারপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, কড়ারিনওশারা, নীচ পলাশী ও কালিদাসখালীসহ এসব গ্রামের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা-পাকা সড়ক হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও নৌকায়, আবার কোথাও পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। উঁচু জায়গার অভাবে কেউ কেউ ঘরের মেঝেতেই পানি মাড়িয়ে বসবাস করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে গেছে।

নদীভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া ও ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরানো হয়। কিন্তু নতুন স্থানেও মেঝেতে হাঁটুপানি জমেছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে না পারলেও বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না হওয়ায় শিক্ষকদের সেখানে যেতে হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, ভাঙনের কারণে ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পানি আরও বাড়লে সেটিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পানিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও দিনমজুর পরিবারগুলোও চরম সংকটে পড়েছে। কাজের সুযোগ না থাকায় অনেক দিনমজুর পরিবারে আয় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেকেই নিজেদের থাকার জায়গা কোনোভাবে ঠিক রাখতে পারলেও গরু-ছাগলের জন্য নিরাপদ ও উঁচু স্থান খুঁজে পাচ্ছেন না। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

পানিবন্দি বাসিন্দা কাজল ফকির, মিঞা খাঁ, হালিম খাঁ ও মজনু ফকিরসহ অনেকে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পানির মধ্যে আটকে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। চলাচল করা যাচ্ছে না, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই দাবি জানিয়েছেন রাজা ব্যাপারি, সোবহান মোল্লা ও বাঁতেন মোল্লাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও তারা বড় সমস্যায় পড়েছেন।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মধ্যে ১৩টির মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। নদীর পানি না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার জানান, আতারপাড়ার ১০০ পরিবারকে ১৫ কেজি করে এবং নীচ পলাশী গ্রামের ৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দাদেরও সহায়তার আওতায় আনা হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ