কর্মস্থল থেকে ‘উধাও’ ১৩ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের পুলিশ বাহিনী। দায়িত্বে ফিরেও দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ১৩ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
রোববার (২৯ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে একযোগে ১৩টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, এ কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালায় ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্যযোগ্য অপরাধ করেছেন। এজন্য তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বরখাস্ত হওয়া ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন— ৩ জন পুলিশ সুপার, ৮ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এবং ২ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বরখাস্ত হওয়া এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থাইল্যান্ড ও পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার নামে বিদেশে অবস্থান করছেন। নির্ধারিত ছুটির পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সিলেট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ২৬ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত; এস এম শামীম, ডিএমপির সাবেক এডিসি, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনুপস্থিত; ইফতেখায়রুল ইসলাম, কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ; মিশু বিশ্বাস, জামালপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ২৬ অক্টোবর থেকে দায়িত্বে নেই; হাসানুজ্জামান মোল্যা, রাঙামাটি এপিবিএন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপস্থিত; রুবাইয়াত জামান, সুনামগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত; মাসুদুর রহমান, র্যাব-৮ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার, গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ; মাহমুদুল হাসান, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের এএসপি, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে নেই; মোহাম্মদ ইমরুল, উখিয়া এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে দায়িত্বে নেই।
সরকারি বিধি অনুযায়ী কর্মস্থল থেকে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে তা ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়। বরখাস্ত করা এই ১৩ জনের বিরুদ্ধেও সেই ধারা অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে