এক লাফে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
দেশের বাজারে বেসরকারি পর্যায়ে সরবরাহ করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন এ দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর ফলে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বিইআরসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দরের তুলনায় এবার একবারে ২৫২ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাদের। গত মাসে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির এই বহুল ব্যবহৃত সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত কয়েক মাসের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এলপিজির দরে বেশ ওঠানামা হয়েছে। জুলাইয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগস্টে ৭০ টাকা বাড়িয়ে তা ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
বিইআরসি সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, সৌদি আরামকোর ঘোষিত কন্ট্রাক্ট প্রাইস, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং ডলারের বিনিময় হারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে কমিশন মাসভিত্তিক এই মূল্য সমন্বয় করে আসছে।
এদিকে নতুন দর ঘোষণার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ১ হাজার ৫৮৫ টাকার নির্ধারিত সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রির তথ্যও উঠে এসেছে। সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দর কার্যকর হওয়ায় রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রান্না বা অন্যান্য কাজে সিলিন্ডারভিত্তিক এলপিজি ব্যবহার করে, তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতেও এলপিজির দরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মে ও জুনে দাম কমে এবং জুলাইয়ে আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর আগস্ট ও অক্টোবরে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলো।
মতামত দিন