খাগড়াছড়ির ১২২ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩টি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) খাগড়াছড়ির ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৩টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
খাগড়াছড়িতে সংসদীয় আসন মাত্র একটি। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ওই আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ও শঙ্কা বাড়ছে। ডিএসবির সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াতের জটিলতা, স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এসব কেন্দ্র নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খাগড়াছড়ির বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপরাধমূলক তৎপরতা বা ভোট দখলের চেষ্টা রোধ করা সম্ভব হবে।
একই মত দেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরী। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনীকে প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হলে সাধারণ ভোটাররা উৎসাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে