Views Bangladesh Logo

নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা, তথ্য প্রকাশ করায় হুমকিতে নারী চিকিৎসক

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের ঘটনায় ১১ বছরের এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা নারী চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার আতঙ্কে নিজের অবস্থান প্রকাশ করছেন না। তবে তার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর কোনো এক স্থানে অবস্থান করছেন।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় ডা. সায়মা আক্তারের স্বামী মো. আসিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রী সাইবার বুলিংসহ নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন। এমনকি চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া এবং পেশাগত ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসক সায়মা আক্তারকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নিজের ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় তিনি লিখেছেন, নিতান্তই বাধ্য হয়ে এই ভিডিওটি করা। লাইফ থ্রেট, কুপিয়ে হত্যা করার হুমকিসহ আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। একটি ১১ বছরের মেয়ের পাশে দাঁড়ানোই কি আমার অপরাধ?

এদিকে, নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।বুধবার (৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার পর অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী এবং পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির সঙ্গে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন।

সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থতা অনুভব করলে তার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে মঙ্গলবার অজ্ঞাত স্থান থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ করা চিকিৎসক যে হুমকির মুখে রয়েছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়াও, গ্রেপ্তার হওয়া আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা এবং তার নানির সঙ্গে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ