বিক্ষুব্ধ কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯৭ বস্তা সারের ১১৫ বস্তা উদ্ধার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদাম থেকে লুট হওয়া সারের ১৯৭ বস্তার মধ্যে ১১৫ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় গুদাম মালিক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামে সার মজুত থাকার পরও কৃষকদের সার না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে রোববার সকালে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান।
পরে বিভিন্ন সময়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ৮২ বস্তা সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
ঘটনার দিনই মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিসিআইসির সার ডিলার প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে। সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুর রহমান।
সোমবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী, সার ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এরপর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, সার ডিলারের স্বত্বাধিকারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ কৃষকদের নিয়ে যাওয়া সারের মধ্যে ১১৫ বস্তা উদ্ধার হয়েছে। সার ডিলারকে কৃষি অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন