৪৫ দেশের ১১ হাজার ক্রীড়াবিদের মিলনমেলা, এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন আজ
জাপানের নাগোয়া শহরে আজ পর্দা উঠছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসের। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে শুরু হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। এবারের আসরে ৪৫ দেশের প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন।
প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকোসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। জাপানি ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, ড্রাম পারফরম্যান্স ও স্থানীয় সংস্কৃতির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ‘হারমোনিক হার্ট বিট’—এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের এক হৃদয়ের স্পন্দনে একত্র হওয়ার প্রতীক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আসরের আনুষ্ঠানিক মশাল প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
আয়োজকেরা বরাবরের মতো উদ্বোধনী আয়োজনের বেশিরভাগ বিষয় গোপন রেখেছেন। তবে জাপানের ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বর্ণিল পরিবেশনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৫৮ সালের টোকিও ও ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস, ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিক এবং এবারের আইচি-নাগোয়া আসরের প্রতীকী শিখা একত্র করে মূল স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্বালনের আয়োজনও থাকছে।
এবারের আসরে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের ৪৬৯টি ইভেন্টে পদকের জন্য লড়বেন ক্রীড়াবিদরা। মোট ১ হাজার ৪০৭টি পদকের জন্য প্রতিযোগিতায় নামবেন তারা। বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ২২টি ডিসিপ্লিনে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে আনুষ্ঠানিকতা চললেও বাংলাদেশের কয়েকটি দলের পদকের লড়াই ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। নারী ক্রিকেট, নারী ফুটবল ও পুরুষ হকি দল মাঠে নেমেছে। নারী ক্রিকেট দল সেমিফাইনালে উঠলেও নারী ফুটবলে হতাশাজনক শুরু হয়েছে। দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের।
তবে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের অন্যতম বড় আশা ক্রিকেটকে ঘিরে। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দিয়েছিল ক্রিকেট। এবারও ক্রিকেটের পাশাপাশি শুটিং ও আর্চারিতে পদকের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে লাল-সবুজের ক্রীড়াবিদদের সামনে স্বপ্ন ও সামর্থ্যের বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস।
মতামত দিন