ইরানের প্রতিরোধে থেমে গেল বেলজিয়াম, ম্যাচ ড্র
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে ইরানের অবিশ্বাস্য রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছে বেলজিয়াম। বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে কেভিন ডি ব্রুইনাদের।
ম্যাচজুড়ে বেলজিয়ামই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক দল। তবে সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় ভুগেছে তারা।
প্রথমার্ধে লো-ব্লক রক্ষণে ভর করে খেলেছে ইরান। আর সেই রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি বেলজিয়ামকে হতাশ করেন।
অন্যদিকে ইরানও ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ১১ মিনিটে মেহদি তারেমি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়ালেও ভিএআরের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। পরে হোসেইন কানানির একটি জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৬ মিনিটে। ইরানের সম্ভাবনাময় একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয়। এরপর শেষ প্রায় ২৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইউরোপের দলটিকে।
একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। প্রথম ৭০ মিনিটে যেখানে তারা মূলত রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল, সেখানে শেষভাগে বেলজিয়ামের অর্ধে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। তবে বাড়তি খেলোয়াড়ের সুবিধা নিয়েও গোল আদায় করতে পারেনি এশিয়ার দলটি।
লাল কার্ডের পর কোচ রুদি গার্সিয়া আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে রক্ষণ শক্ত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ি আক্রমণাত্মক বদলি নামিয়ে জয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
ফলে গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচ। এই ফলের কারণে গ্রুপ ‘জি’-এর লড়াই আরও জমে উঠেছে। দুই ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম, ইরান, মিশর ও নিউজিল্যান্ড—সব দলের সামনেই শেষ ষোলোয় ওঠার সুযোগ থাকায় শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ জি-তে লড়াই আরও জমে উঠল — মিশর, বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ড প্রত্যেকেই দুই ম্যাচ শেষে সমান পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থান করছে, এবং নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচগুলো সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতামত দিন