Views Bangladesh Logo

আসাম থেকে নৌপথে ঢাকায় আসছে ১,০৮০ টন মিথানল

ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে জলপথে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর এই প্রথম ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন হতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌবাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৭টি কনটেইনার রাখা যাবে এবং প্রতিটি কনটেইনারে বহন করা হবে ২০ টন মিথানল। অর্থাৎ একেকটি জাহাজে ৫৪০ টন করে দুই জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল ঢাকায় পাঠানো হবে। বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জলপথে প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে। পুরো যাত্রায় সময় লাগতে পারে প্রায় সাত দিন।

এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত দুটি জাহাজ প্রায় তিন দশক ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে এপিএল সেগুলো লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের পর জাহাজ দুটিকে আবার বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। এখন এগুলো দিয়েই বগীবিল থেকে ঢাকায় মিথানল পরিবহন করা হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনালের অবকাঠামোও প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও পণ্য সংরক্ষণের জন্য গুদাম তৈরি করা হয়েছে। নৌপথের কার্যক্রম তদারকি ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ স্থাপনের কাজও চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বগীবিল টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শুধু মিথানল নয়, আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিপণ্য বাংলাদেশ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) পণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত সামগ্রী, কয়লা ও চা। পাশাপাশি আসামের জিআই সনদ পাওয়া কাজী লেবু, ভুত জলোকিয়া মরিচ ও গোলমরিচও এই নৌপথে বিদেশের বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পেতে পারে।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নৌপথে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন তুলনামূলক কম খরচে করা যায় এবং এতে পরিবেশের ওপর চাপও কম পড়ে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের এই নৌপথ ভবিষ্যতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবেও ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে ডিব্রুগড়ের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নদীপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশের সঙ্গে পণ্য আদান-প্রদান করত। দীর্ঘ সময় পর সেই পুরোনো নৌবাণিজ্যপথ নতুন রূপে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ