Views Bangladesh Logo

'মুলুক চলো'র ১০৫ বছর: চা শ্রমিক দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি

ঐতিহাসিক 'মুলুক চলো' দিবসের ১০৫তম বার্ষিকীতে ২০ মে-কে 'চা শ্রমিক দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সবেতন ছুটির দাবিতে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে ১৯২১ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বুধবার (২০ মে) চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে দেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়ায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া লাক্কাতুরা, হিলুয়াছড়া, দলদলি, কালাগুল, বুরজান ও লালাখালসহ একাধিক বাগানে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিছিল ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

১৯২১ সালের ২০ মে চাঁদপুর স্টিমার ঘাটে ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে গুর্খা বাহিনী নিরস্ত্র চা শ্রমিকদের উপর গুলি চালায়। পণ্ডিত গঙ্গাদয়াল দীক্ষিত ও দেওশরণের নেতৃত্বে শত শত মাইল পথ পায়ে হেঁটে 'নিজ মুল্লুকে' ফেরার পথে হাজার হাজার শ্রমিক সেদিন প্রাণ হারান। নিহতদের পেট কেটে লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনা বিশ্বে 'চরগুলা এক্সডাস' নামে পরিচিত। পরবর্তীতে কারাগারে অত্যাচারের প্রতিবাদে অনশনে আত্মাহুতি দেন আন্দোলনের নেতা গঙ্গাদয়াল দীক্ষিত।

কেন্দ্রীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক, সাধারণ সম্পাদক বচন কালোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক অধীর বাউরী, দপ্তর সম্পাদক চম্পক বাউরী এবং অর্থ সম্পাদক নমিতা রায় প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চা শ্রমিকদের এই বীরত্বের কথা আজ ক'জন জানে? এই ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ২০ মে-কে 'চা শ্রমিক দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।’

চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে দেশে নানামুখী গণতান্ত্রিক সংস্কারের আলাপ-আলোচনা চলছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চা শ্রমিকদের ভাগ্যের চুল পরিমাণও পরিবর্তন হয়নি। উল্টো চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, চা শ্রমিকরা নাকি কাজে ফাঁকি দেন, দিনে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা কাজ করেন এবং তারা ভালো আছেন। আমরা তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।’

মজুরি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ‘প্রতিদিন অস্বাভাবিক মাত্রায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে কীভাবে ভালো থাকা যায়? এই মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব।’ এজন্য তারা চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ এবং ২০২৩ সালে প্রণীত শ্রমিক স্বার্থবিরোধী 'গেজেট-২৩' বাতিলের জোর দাবি জানান।

বিভিন্ন বাগানে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক রবি মাল, সদস্য সুহেল বন্দ্যোপাধ্যায়, লিপি গঞ্জু, চঞ্চল বাক্তি ও মঙ্গল কর্মকার, দলদলি বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মিন্টু দাস, কালাগুল বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি রঞ্জু নায়েক, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ রেলি, সোহাগ ছত্রী, বুরজান বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি রতিলাল নায়েক, অক্ষয় নায়েক এবং সাইদুর রহমান সুহেল।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ