৩০ ঘণ্টা ধরে জিরো লাইনে ১০ জন, গ্রহণ করছে না বাংলাদেশ-ভারত কোনো দেশই
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টায় আটকে পড়া ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধা এবং ভারতেও ফিরে যেতে না পারায় তারা দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে পড়েন।
ঘটনার ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এটিকে অবৈধ পুশইনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের গ্রহণ করছে না। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হয়েছে ওই নারী, পুরুষ ও শিশুদের। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পান করার ঘটনাও জানা গেছে। রাতভর ভিজে কাটাতে হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে আটকে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
মতামত দিন