৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে ১০ জন, সমাধান মেলেনি দুই দফা বৈঠকেও
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ১০ জন প্রায় ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত এ সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।
রোববার (৭ জুন) বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জ্যৈষ্ঠের তীব্র রোদ, গরম ও বৃষ্টির মধ্যেই ফসলি জমির সরু আইলে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভোরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি এবং এরপর থেকেই শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় শনিবার বড়বাড়ি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়েও পতাকা বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো বৈঠক থেকেই সমাধান বের হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রোদ, বৃষ্টি ও পানির মধ্যে ছোট শিশুদের নিয়ে এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করা অত্যন্ত কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফকে ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের গ্রহণ করবে না বলে অবস্থান জানিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তে উদ্ভূত এই মানবিক সংকট দ্রুত সমাধানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে