আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ দেখা নিয়ে টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতের এ সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সহকারী প্রক্টর আবদুল কুদ্দুসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সহকারী প্রক্টর আবদুল কুদ্দুস বলেন, আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচ দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে ইটের আঘাতে তিনি আহত হন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথম দফায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মনির মোর্শেদ বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন