ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভয়াবহ এক মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন, দোয়ারাবাজারের একজন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দিরাই উপজেলার নিহতরা হলেন—তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজারের কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সোহানুর রহমান, শায়েখ আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন।
একই নৌকায় থাকা জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, টানা কয়েকদিন সমুদ্রে ভাসতে থাকার সময় খাদ্য ও পানির তীব্র অভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে নেওয়ার চুক্তি করা হয়েছিল। নিরাপদ ও বড় নৌযানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের একটি ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তোলা হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে স্থানীয়রা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িত মানব পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এখনো পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি, তবে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ একটি রাবারের নৌকায় করে যাত্রা শুরু করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। প্রায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তারা এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ, যাদের মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে