হলিউডের যে ১০টি বিখ্যাত সিনেমা আসলে সত্যি ঘটনা থেকে নেওয়া
মাঝে মাঝে সিনেমা দেখতে বসে মনে হয়— এটা কি সত্যিই সম্ভব? কেউ কি আসলেই এভাবে বাঁচতে পারে, এভাবে লড়তে পারে, এভাবে জিততে পারে? পারে। কারণ এই দশটা সিনেমার গল্প কোনো লেখকের কল্পনা না। এগুলো সত্যিকারের মানুষের সত্যিকারের জীবন। যারা যুদ্ধের মাঝে বেঁচেছেন, প্রতারণাকে শিল্পে পরিণত করেছেন, পৃথিবী ধ্বংসের অস্ত্র বানিয়ে নিজেই কেঁদেছেন, রাস্তায় রাত কাটিয়ে কোটিপতি হয়েছেন। সত্যি ঘটনা বলেই এই সিনেমাগুলো বুকে এসে লাগে। পর্দা শেষ হলেও গল্পগুলো মাথায় থেকে যায়।
শিন্ডলার্স লিস্ট (১৯৯৩)
আইএমডিবি: ৯.০ | রটেন টমেটোস: ৯৮%
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন জার্মান ব্যবসায়ী প্রায় ১,২০০ ইহুদিকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন— নিজের পুরো সম্পদ খরচ করে। স্টিভেন স্পিলবার্গ এই ছবি থেকে এক পয়সাও নেননি। বলেছিলেন, ‘এটা রক্তের টাকা।’ ছবির সব মুনাফা দিয়ে তিনি হলোকস্ট সার্ভাইভারদের সাক্ষাৎকার সংরক্ষণের ফাউন্ডেশন বানিয়েছেন। ছবিটা সাদাকালো— কিন্তু একটা দৃশ্যে একটা ছোট মেয়ের লাল জামা দেখবেন। সেই লাল রঙটা এখনও মাথায় গেঁথে আছে কোটি দর্শকের।
দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক (২০১০)
আইএমডিবি: ৭.৮ | রটেন টমেটোস: ৯৬%
মার্ক জাকারবার্গ আর এডুয়ার্দো সাভেরিন— দুই বন্ধু মিলে ফেসবুক বানিয়েছিল হার্ভার্ডের একটা ছোট ঘরে। তারপর একজন আরেকজনকে কোম্পানি থেকে বের করে দিল। আদালতে মামলা হলো। বন্ধুত্ব শেষ হলো। ফেসবুক হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া। এই ছবি দেখলে বুঝবেন সফলতার পেছনে কতটা বিশ্বাসঘাতকতা থাকে।
ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান (২০০২)
আইএমডিবি: ৮.১ | রটেন টমেটোস: ৯৬%
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ফ্রাংক অ্যাবাগনেল জুনিয়র পাইলট সেজেছিল, ডাক্তার সেজেছিল, উকিল সেজেছিল। পুরো আমেরিকার এফবিআই তাকে ধরতে পারছিল না। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও সেই ফ্রাংকের চরিত্রে এতটাই স্বাভাবিক যে মনে হয় সত্যিকারের প্রতারককেই দেখছেন। মজার ব্যাপার হলো — আসল ফ্রাংক পরে এফবিআইয়ের হয়েই কাজ করেছেন।
আর্গো (২০১২)
আইএমডিবি: ৭.৭ | রটেন টমেটোস: ৯৬%
১৯৭৯ সালে ইরানে মার্কিন দূতাবাস দখল হয়ে গেল। ৬ জন আমেরিকান আটকা পড়ল। সিআইএ-র এক এজেন্ট তাদের বের করে আনল সিনেমার শুটিং-এর নকল পরিচয় বানিয়ে। পুরো ঘটনাটা ৩৫ বছর গোপন ছিল। বেন অ্যাফ্লেক এই ছবিটার জন্য অস্কার জিতেছিলেন বেস্ট পিকচারে।
ওপেনহাইমার (২০২৩)
আইএমডিবি: ৮.৩ | রটেন টমেটোস: ৯৩%
যে মানুষটা পারমাণবিক বোমা বানিয়েছিল, সে নিজেই পরে বলেছিল — ‘আমি এখন মৃত্যু হয়ে গেছি, পৃথিবীর ধ্বংসকারী।’ জে রবার্ট ওপেনহাইমারের গল্প শুধু বিজ্ঞানের নয়, এটা একজন মানুষের আত্মার সংকটের গল্প। ক্রিস্টোফার নোলান তিন ঘণ্টায় যেভাবে এই গল্প বলেছেন, সেটা দেখার মতো অভিজ্ঞতা।
দ্য পারসুট অব হ্যাপিনেস (২০০৬)
আইএমডিবি: ৮.০ | রটেন টমেটোস: ৬৭%
ক্রিস গার্ডনার নামের এক মানুষ একসময় ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন, মেট্রো স্টেশনের বাথরুমে ঘুমিয়েছেন। পরে তিনি হয়েছেন কোটিপতি ব্যবসায়ী। উইল স্মিথের এই ছবিটায় তার আসল ছেলে জেডেন স্মিথও অভিনয় করেছেন — বাবা আর ছেলের কেমিস্ট্রি দেখলে চোখ ভিজে যায়।
জোডিয়াক (২০০৭)
আইএমডিবি: ৭.৭ | রটেন টমেটোস: ৯০%
১৯৬০-৭০ দশকে সানফ্রান্সিসকোতে একজন সিরিয়াল কিলার পুলিশকে চিঠি পাঠাত— নিজেকে ‘জোডিয়াক’ বলে পরিচয় দিয়ে। কখনো ধরা পড়েনি। আজও পরিচয় অজানা। ডেভিড ফিঞ্চার এই সত্যি রহস্যটাকে এমনভাবে বানিয়েছেন যে শেষ করার পরেও ঘুম আসে না।
স্যালি (২০১৬)
আইএমডিবি: ৭.৫ | রটেন টমেটোস: ৮৫%
২০০৯ সালে একটা বিমান নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে জরুরি অবতরণ করল। ১৫৫ জন যাত্রী সবাই বেঁচে গেল। ক্যাপ্টেন সালেনবার্গারের সেই ১০৮ সেকেন্ডের সিদ্ধান্তটা পুরো আমেরিকা কাঁদিয়েছিল। টম হ্যাংকসের অভিনয় মনে রাখার মতো।
হ্যাকসো রিজ (২০১৬)
আইএমডিবি: ৮.১ | রটেন টমেটোস: ৮৬%
ডেসমন্ড ডস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গিয়েছিলেন কিন্তু একটাও গুলি করেননি — ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে। তারপরও একা ৭৫ জন আহত সৈনিককে যুদ্ধের মাঝ থেকে টেনে বের করে বাঁচিয়েছিলেন। আমেরিকার ইতিহাসে গুলি না করে মেডেল অব অনার পাওয়া প্রথম মানুষ তিনি।
দ্য ইমিটেশন গেম (২০১৪)
আইএমডিবি: ৮.০ | রটেন টমেটোস: ৯০%
অ্যালান টুরিং — যাকে বলা হয় কম্পিউটারের জনক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি নাৎসিদের গোপন কোড ভেঙে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের পরে এই মানুষটাকেই সরকার শাস্তি দিয়েছিল — শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য। বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের অভিনয় দেখে বুকটা ভারী হয়ে যায়।
এই দশটা ছবির মধ্যে যেটাই বেছে নিন— গল্পটা সত্যি বলেই অনুভূতিটা অন্যরকম। কারণ পর্দা শেষ হলেও এই মানুষগুলো সত্যিই ছিলেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে