Views Bangladesh Logo

পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ রাখতে সব জেলায় ‘আটক কেন্দ্র’ গঠনের নির্দেশ

ভারতে কথিত অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক বাংলাদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। আজ রোববার (২৪ মে) রাজ্যের প্রশাসনিক সদরদপ্তর ‘নবান্ন’ থেকে জেলা প্রশাসনগুলোর কাছে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে সন্দেহ হলে তাকে গ্রেপ্তার করে এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ সর্বোচ্চ ৩০ দিন আটকে রাখা যাবে। কথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে নতুন আটকরা ছাড়াও, যারা এর আগে বেআইনিভাবে বসবাসের দায়ে ধরা পড়ে সাজা খাটছিলেন এবং বর্তমানে যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া (ডিপোর্টেশন) চলছে, তাদেরও এই আটক কেন্দ্রে রাখা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই বিতর্কিত ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দেন। সিএএ-এর আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ এলো। এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল, কিন্তু আগের রাজ্য সরকার তা পালন করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।’

নবান্নের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এই সেন্টারগুলো ব্যবহার করা হবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ সব কমিশনারেটের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ৮ পাতার একটি গাইডলাইন জারি করা হয়েছিল। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে আটক ব্যক্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কি না, তা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (নাম মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)’ নীতি অনুসরণ করছে। সেন্টারে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পোর্টালে আপলোড করা হবে এবং তাদের ভারতে স্থায়ীভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ বা কালো তালিকাভুক্ত করে বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে ফেরত পাঠানো হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ