Views Bangladesh Logo

তনু হত্যা: সাত মাস পর তদন্ত কর্মকর্তা হঠাৎ মাঠে

ঠাৎ মাঠে নেমেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মো. তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা।

দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস পর সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটায় ঘটনাস্থলে আসেন তারা। বিকেল সাড়ে চারটায় মামলার বাদী তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক মো. ইয়ার হোসেনের অফিসে গিয়ে কথা বলেন। এ সময় ছিলেন নিহতের মা আনোয়ারা বেগম এবং ভাই রুবেল হোসেনও।
 
ইয়ার হোসেন জানান, হত্যার পর দফায় দফায় পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইয়ের কাছে ক্যান্টনমেন্ট, কুমিল্লা ও ঢাকায় গিয়ে মামতো বোন লাইজু ও স্কুলের শিক্ষকসহ পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ পর্যন্ত মামলার কোনো অগ্রগতিই দেখতে পাননি তারা।

তিনি বলেন, ‘জীবোদ্দশায় এ জঘন্য হত্যার বিচার দেখে যেতে পারবো বলে মনে হয় না। স্বয়ং আল্লাহর বিচার যদি হয়। তা না হলে কোনো আশা নেই’।

নিহত তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, ‘আগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা আগে জানিয়ে দিতেন, কখন আসবেন। এবার তা জানাননি। আমরা কুমিল্লার বাইরে থাকলে কীভাবে দেখা করতাম?’

তিনি বলেন, ‘মামলার অগ্রগতি বলতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল ছাড়া কিছুই হয়নি। গত নয় বছরে মামলার তদন্তকারী সংস্থার পরিবর্তন হয়েছে চারবার আর তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন ছয়বার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠবারের মতো পিবিআই- এর এই কর্মকর্তা নিয়োগ পান। আর আজ তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলেন’।

বোনের হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রুবেল বলেন, ‘সাক্ষ্য আর তদন্তে কেটে গেছে নয় বছর। দফায় দফায় তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলেও মামলার অগ্রগতি নেই। সবাই ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন’।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছি। আল্লাহ নিশ্চয়ই একদিন বিচার করবেন’।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিবর্তন নয়, আমরা খুনিদের বিচার চাই। আর কিছু চাই না। বেঁচে থাকতেই মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চাই’।
 
তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘মামলার তদন্তের নিয়মিত কার্যক্রম এ পরিদর্শন। আমরা আজই ঢাকা ফিরে যাব। তনুর পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। আশা করি, আসামি শনাক্ত হবে।’  

তদন্ত সংস্থাগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ওই নমুনার প্রোফাইলিংয়ের কাজ চলছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধারের নয় বছরেও হত্যারহস্যের জট খোলেনি। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। পরদিন তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেন।

ওই বছরের ৩০ মার্চ তনুর মরদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যায়নি।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ