বাজেট ২০২৪-২৫
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতি ২০২৭ পর্যন্ত, মোবাইল সিমের দাম বাড়বে ১০০ টাকা
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাজেটে মোবাইল ফোনের সিম/রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিপরীতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি সিম কার্ড/ই-সিম কার্ড সরবরাহের বিপরীতে বিদ্যমান মূসকের পরিমাণ ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন কালে এ প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
প্রস্তাবিত বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোবাইল অপারেটরদের জাতীয় ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (এমটব) এমটব বলেন, মোবাইল সেবার উপর আরোপিত অতিরিক্ত ৫% সম্পূরক শুল্ক টেলিকম শিল্প ও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করবে।
এদিকে, ফোনের কলরেটের ওপর ১৫% ভ্যাট এবং ১৫% সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো গ্রাহকদের। এখন তা আরও ৫% বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে ভোক্তাদের ১% সারচার্জ দিতে হবে।
নতুন করে সম্পূরক শুল্ক ৫% বাড়ানোয় একজন গ্রাহক এখন ১০০ টাকার রিচার্জ করলে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কেটে নেওয়ার পর ৬৯.৩৫ টাকার কথা বলতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৭টি উপখাতে ১৯৯৯ সাল থেকে কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে তথ্য প্রযুক্তি খাত। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে এ অব্যাহতির মেয়াদ উঠে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যেক্তারা এই কর অব্যাহতির মেয়াদ কমপক্ষে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেনের শর্তে আরও তিন বছর কর অব্যাহতির সুবিধা পাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের ১৯টি উপখাত। প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি খাতের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া উপখাতগুলো হলো— এআই বেজড সল্যুশন ডেভেলপমেন্ট, ব্লকচেইন বেজড সল্যুশন ডেভেলপমেন্ট, রোবোটিক্স প্রসেস আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার-অ্যাজ-আ-সার্ভিস, সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস, ডিজিটাল ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডেটা সায়েন্স, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও কাস্টমাইজেশন, সফটওয়্যার টেস্ট ল্যাব সার্ভিস, ওয়েব লিস্টিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভিস, আইটি সহায়তা ও সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স সার্ভিস, জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস, ডিজিটাল অ্যানিমেশন ডেভেলপমেন্ট ডিজিটাল গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ই-পাব্লিকেশন, আইসিটি ফ্রিল্যান্সিং, কল সেন্টার সার্ভিস এবং ডকুমেন্ট কনভারশন, ইমেজিং ও ডিজিটাল আর্কাইভিং।
এছাড়া, আমদানিকারকদের বর্তমানে ল্যাপটপ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কসহ মোট ৩১ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে শুল্ক-কর ৩১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে ল্যাপটপ দাম কমবে।
এদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোবাইল অপারেটরদের জাতীয় ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (এমটব) এমটব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মোবাইল সেবার উপর আরোপিত অতিরিক্ত ৫% সম্পূরক শুল্ক টেলিকম শিল্প ও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করবে। এর আগে এই শুল্কের হার ছিল ১৫%। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ গ্রাহকরা মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে আর্থিক চাপে পড়বে। ফলশ্রুতিতে মোবাইলের ব্যবহার সংকুচিত হয়ে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ও সরকারের রাজস্ব আহরণ হ্রাস পাবে।
অধিকন্তু, মোবাইল সিমের উপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বৃদ্ধি নতুন গ্রাহক প্রবৃদ্ধির হারকেও মন্থর করবে যেখানে দেশে এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ সংযোগের বাইরে অবস্থান করছে। এই কর বৃদ্ধি দেশের সার্বিক ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া এবং জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব রাখবে যা সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ভিসনের স্ববিরোধী। আমরা সরকারের কাছে আরোপিত শুল্ক এবং আমাদের পক্ষ থেকে প্রেরিত বাজেট সুপারিশমালা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে