Views Bangladesh Logo

দেশজুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করুন

সারা দেশে যেভাবে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-ধর্ষণ আতঙ্ক বাড়ছে তাতে করে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারেই ভেঙে পড়েছে। গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, রোববার রাতে বনশ্রী এলাকায় এক স্বর্ণব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা, ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই করেছে; চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক স্বামীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার স্ত্রীর গহনা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে; রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির মহড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন, ‘মহল্লায় ডাকাতদল প্রবেশ করেছে’; ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ; সারা দেশে ধর্ষণ, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ সব অরাজকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

এসব খবরে বোঝা যায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, রাজধানীতে ৬ মাসে খুন প্রায় ২৫০, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ৭৭২। এসব ঘটনার সূত্র ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাল থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চলছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতীকী জানাজা পড়েছেন শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে সোমবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় গতকাল (সোমবার) দুপুর ১টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রোববার দিনগত রাত ৩টায় (সোমবার) রাজধানীর বারিধারায় নিজের বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন।

ছিনতাই আতঙ্ক থেকে বাঁচতে অনেক এলাকায় জনগণ রাত জেগে পাহারা শুরু করেছেন; কিন্তু এভাবে জনগণ কতদিন বাঁচবে? অনেকে এখন সন্ধ্যার পর রাস্তায় চলতে এবং বাড়িতে ঘুমাতেও ভয় পান। একটা স্বাধীন দেশে কোনোভাবেই এটা কাম্য হতে পারে না। এসব চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-ধর্ষণ বৃদ্ধি অনিবার্যভাবেই বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে। সাধারণ মানুষ এটা আর সহ্য করতে পারছে না। কেন হঠাৎ এসব অপরাধ বেড়ে গেল তার প্রকৃত কারণও খতিয়ে দেখা জরুরি।


এসব কি শুধু আওয়ামী লীগের দোসরদের কাজ না কি সমাজে আসলেই অপরাধীর সংখ্যা বেড়ে গেছে? অপরাধীর সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে কেন বাড়ল? এসব নিয়ে সামাজিক গবেষণা যেমন জরুরি তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করাও জরুরি। সাধারণত দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলেই এসব সামাজিক অপরাধ বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিই বা কী কারণে হলো তাও সরকারকেই বের করতে হবে। সরকারের ‘রুলস অব অর্ডার’ কি কাজ করছে না? না করলে কেন করছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ