রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে উদ্যোগ নিন
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর দেশের জনগণকে উদ্বিগ্ন করছে। হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতা দিন দিন অসহনীয় মাত্রায় বেড়েই চলেছে। ফলে তারা কক্সবাজার, টেকনাফ অঞ্চলকে অনেকাংশে গ্রাস করে ফেলছে। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, পরিবেশসহ অনেক কিছু বর্তমানে হুমকির মুখে চলে যাচ্ছে।
১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ দিন দিন তাদের সন্ত্রাসী শক্তি বৃদ্ধি করছে। তারা একে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে মুখোমুখি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। খুন-খারাবি, অপহরণ, শিশু ও নারী পাচার এবং মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত!
গত ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, কক্সবাজারের উখিয়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও একজন রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ জানুয়ারি উপজেলার তাজনিমারঘোনা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) সি-৬ ব্লকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সন্ত্রাসীরা তাকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়, এরপর গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি উখিয়ার হাকিমপাড়া আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-২০) গলা কেটে হত্যা করা হয় রোহিঙ্গা নেতা করিম উল্লাহকে।
দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার ঘটনায় আশ্রয়শিবিরের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আশ্রয়শিবিরের সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, নিহত এই দুই রোহিঙ্গা যুবক আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তারা আরসা ত্যাগ করে মিয়ানমারের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনে (আরএসও) যোগ দেন। এ কারণে তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে আশ্রয়শিবিরে ৬৭টি সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৮১ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন রোহিঙ্গা মাঝি, ২২ জন আরসার সদস্য, ৭ জন আরএসওর সদস্য, ১ জন স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যরা সাধারণ রোহিঙ্গা।
প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের এমন ভয়ংকর আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের জনগণ কেন মেনে নেবে। তাই সচেতন নাগরিক সমাজের উৎকণ্ঠা বাড়াটাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই। পাশাপাশি তাদের জনসংখ্যা প্রজনন পরিবার-পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চালানো খুবই জরুরি।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের রাখাইন রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। যতদিন রোহিঙ্গারা ফিরে না যাচ্ছে, ততদিন ওই সব ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলকে যথাযথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে