গ্রুপ-এইচ
দৃষ্টিনন্দন ফুটবলে বিশ্ব জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে স্পেন
ইউরোপের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী দল স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের পজেশন-ভিত্তিক দ্রুত গতির খেলা, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং দৃষ্টিনন্দন পাসিং স্টাইলের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তারা ২য়। এ থেকেই বোঝা যায় তারা কতটা শক্তিশালি দল। লা রোহা নামে পরিচিত এই দলটি বল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ধৈর্যশীল আক্রমণ গড়ে তোলে এবং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলার কৌশলে দক্ষ। অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশ্বসেরা তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া স্পেন এবার শিরোপার জন্যই মাঠে নামবে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
স্পেন বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ও সফল দলগুলোর একটি। ২০১০ সালে তারা প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। এছাড়া বহুবার কোয়ার্টার ফাইনাল ও নকআউট পর্বে পৌঁছেছে তারা। ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সের কারণে স্পেনকে সবসময় ফেভারিটদের তালিকায় রাখা হয়।
শক্তিমত্তা
স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পাসিং এবং বল নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে একের পর এক ছোট পাসের মাধ্যমে তারা পত্রিপক্ষকে নাজেহাল করে ছাড়ে এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিফেন্স থেকে আক্রমণ শুরু করার ক্ষমতা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশ্ব সেরা তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তারা ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া চাপের মধ্যেও শান্তভাবে খেলা এবং কৌশল পরিবর্তনের সক্ষমতা স্পেনকে আলাদা করে তোলে। এছাড়া বল নিয়ন্ত্রণ এবং দুই উইং ও মাঝমাঠ দিয়ে তাদের দ্রুত আক্রমন সামলানো বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই বেশ কঠিন।
দুর্বলতা
তবে স্পেনের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। অনেক সময় অতিরিক্ত পজিশন নির্ভর খেলায় গোল করার গতি কমে যায়। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের বিপক্ষে রক্ষণভাগ কিছুটা সমস্যায় পড়ে। এছাড়া বড় ম্যাচে আক্রমনভাগের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রবণতা আছে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান স্পেন দলে তারকা খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি। অনেক ফুটবল বোদ্ধাদের মতে দলটির বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও বড় ম্যাচ জিতিয়ে দিতে সক্ষম। মাঝমাঠে দলের মূল ভরসা পেদ্রি, যিনি স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে খেলেন এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বার্সেলোনার আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার গাভি দলকে আক্রমণ ও ডিফেন্সে ভারসাম্য দেয়। মাঝমাঠের আরেক শক্তি রদ্রি, যিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেন এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে দলের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। আক্রমণে আলভারো মোরাতা গোল করার দায়িত্বে থাকেন; তিনি ইতালির ক্লাব এএস রোমা’র হয়ে খেলেন। স্পেনের ক্লাব অ্যাথলেটিকো বিলবাও- এ খেলা রবিন লে নরমঁদ রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করেন। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উনাই সিমন স্পেনের গোলপোস্টে নির্ভরযোগ্য ভরসা।
দুই উইংয়ে স্পেনের অন্যতম বড় শক্তি নিকো উইলিয়ামস ও লামিনে ইয়ামাল। নিকো উইলিয়ামস স্পেনের অ্যাথলেটিক বিলবাও-এর হয়ে খেলেন এবং তার গতি ও ড্রিবলিং আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখে। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা-এর হয়ে খেলেন এবং বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান উইঙ্গার হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া আক্রমণভাগে দানি ওলমো, যিনি জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগ-এর হয়ে খেলেন, সৃজনশীলতা ও গোল তৈরির দক্ষতা যোগ করেন।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ
বিশ্বকাপে এইচ গ্রুপে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। এই গ্রুপ তুলনামূলকভাবে স্পেনের জন্য সহজই বলা যায়। কেপভার্দের বিপক্ষে পজেশন ফুটবলের মাধ্যমে সহজ জয় নিশ্চিত করার সম্ভাবনা আছে। সৌদি আরবের বিপক্ষেও জয়ের জন্য হয়তো বেগ পেতে হবে না। তবে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে উরুগুয়ের বিপক্ষে, যেখানে শক্তিশালী শারীরিক ফুটবল ও আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে রক্ষণভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবুও স্পেনের টেকনিক্যাল দক্ষতা, বলের নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা ও দ্রুত গতির অ্যাটাক সামলানো গ্রুপের তিন দলের জন্যই খুবই কঠিন হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
স্পেনকে এবারের বিশ্বকাপেও অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদি তারা তাদের পজেশন-ভিত্তিক খেলা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং গোল করার দক্ষতা বাড়াতে পারে, তাহলে তারা এবার ২য় বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করবে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে