সব ক্যাডারের প্রতিনিধি নিয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি পুনর্গঠনের দাবি
অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটিকে অসম্পূর্ণ দাবি করে এর পুনর্গঠন চেয়েছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ।
জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশে বিদ্যমান ২৬ ক্যাডার থেকেই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে নতুন কমিশন গঠনের দাবি সংগঠনটির।
শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, 'উদ্বেগের সঙ্গে দেখলাম ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ যে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, সেখানে ২৫টি ক্যাডারের কোনো সদস্য নেই। বরং কমিশন প্রধানসহ ছয়জন সদস্য একটি ক্যাডারের, যারা সিভিল প্রশাসনে বৈষম্য সৃষ্টিকারী'।
'এর আগেও বৈষম্য নিরসনে তাদের দিয়েই কমিটি গঠিত হয়েছিল এবং তারা সেই সুযোগে বৈষম্য আরও বাড়িয়েছেন অভিযোগ তুলে মনিরুজ্জামান বলেন, বৈষম্যপূর্ণ এ কমিশন কোনোভাবেই বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে না। বরং বিদ্যমান সিভিল প্রশাসন আরও গণবিরোধী হবে। তাই পরিষদ এ কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং সব পেশাজীবীকে নিয়ে পুনর্গঠনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে'।
সিভিল সার্ভিসের বাইরে জনপ্রশাসন বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞকে কমিশনের চেয়ারম্যান করারও দাবি জানান তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন কর্মকর্তা আব্দুল মুয়িদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্যের এ কমিশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিশনের সদস্যরা হলেন- সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. রিজওয়ান খায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএ ফিরোজ আহমেদ এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুজ্জামান বলেন, বিগত ১৫ বছরে যারা জনপ্রশাসনে থেকে ভোটারবিহীন নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, যারা এদেশের জনসেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন নিজস্ব স্বার্থে, যারা প্রশাসন ব্যবস্থাকে চরম কেন্দ্রীভূত করে সকল ক্ষমতা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করেছেন, তাদেরকেই কমিশনের সদস্য করা হয়েছে; যেন এদেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য ছাড়া আর কারো কোনো ভূমিকা নেই।
এ কারণেই স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার হলেও বাংলাদেশে জনসেবা ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি দাবি করে তিনি বলেন বস্তুত বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় পেশাদারত্বের কোন মূল্য দেওয়া হয়নি, এখনও হচ্ছে না।
অন্যু বক্তারা বলেন, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ দেশের ২৬টি ক্যাডারের মধ্যে ২৫টি ক্যাডারের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায় ৬০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে ২৫টি ক্যাডারে প্রায় ৫৩ হাজার কর্মকর্তা চাকরি করেন। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, জনসেবা এ ২৫টি ক্যাডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই ২৫টি ক্যাডারকে পাশ কাটিয়ে শুধু একটি ক্যাডারের প্রতিনিধি দিয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার সম্ভব হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তথ্য ক্যাডারের মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান, গণপূর্ত ক্যাডারের মো. হাফিজুর রহমান, কৃষি ক্যাডারের মো আরিফ হোসেন, শিক্ষা ক্যাডারের ড. মো মফিজুর রহমান, পশুসম্পদ ক্যাডারের শাহাদাত হোসেনসহ ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে