Views Bangladesh Logo

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। ফলে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন উচ্চ আদালতের পর্যালোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে স্বাক্ষর করার পর মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে তা কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকেই ডেথ রেফারেন্স বলা হয়। হাইকোর্ট রায়ের নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে মৃত্যুদণ্ড বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনার পর দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে সোচ্চার প্রতিবাদ দেখা যায়।

এর আগে বিচারিক আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত অপরাধকে নৃশংস ও মানবতাবিবর্জিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত হবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিলও করতে পারবেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল একসঙ্গে শুনানি করে হাইকোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

শিশু রামিসার পরিবার ও স্বজনরা আশা প্রকাশ করেছেন, উচ্চ আদালতেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন।

এদিকে মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কারণ শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা ও যৌন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ