ট্রেনের ভাড়ায় প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ২৫ শতাংশ ছাড়
প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে শুধুমাত্র ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় মিলবে। সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট আগের হারেই প্রযোজ্য হবে।
রোববার (২৪ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ রেলওয়েকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়। সোমবার (২৫ মে) থেকে এই ছাড় কার্যকর হবে।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দূরপাল্লার সব পরিবহনে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল- এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকে ১৮০ দিনের মধ্যে এই সুবিধা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের এই ছাড়ের আওতায় আনা হলো।
রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাড়ের ক্ষেত্রে দুই শ্রেণির যাত্রীদের জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের বয়সসীমায় ছাড় পেতে হলে যাত্রীর বয়স অবশ্যই ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স নির্ধারিত হবে। অনলাইন এবং কাউন্টার- দুই মাধ্যমেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে যাত্রীকে অবশ্যই বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত হতে হবে।
একজন প্রবীণ নাগরিক যাত্রার তারিখ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার এই ছাড় পাবেন। টিকিট রিফান্ড (ফেরত) করা হলে তা সাপ্তাহিক গণনা থেকে বাদ যাবে এবং ওই সপ্তাহে আবার ছাড় পাওয়ার যোগ্যতা ফিরে পাবেন। প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে কোনো সাধারণ সহযাত্রী থাকলে তাকে পূর্ণ ভাড়াই দিতে হবে। তবে সহযাত্রীও যদি প্রবীণ হন, তবে প্রতি টিকিট বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড় পাবেন। সেক্ষেত্রে ওই সহযাত্রীর নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফাইড হতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ কার্ডধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন। রেলওয়ে জানিয়েছে, আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে (এবং যেগুলোতে এই শ্রেণি নেই, সেগুলোর শোভন চেয়ারে) আগের নিয়মেই ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সব এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) শ্রেণিতে মোট ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন তারা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই ছাড় সুবিধা আপাতত শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইনেও এই সুবিধা চালু করা হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযাত্রীকে নিয়মিত ভাড়ায় টিকিট কাটতে হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফাইড পরিচয়পত্র চালু করার পর তাদের টিকিট মূল্যে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে