Views Bangladesh Logo

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রায় ১৩ বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে অনুমোদন পাওয়া খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণ উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

একনেক বৈঠকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, কেন বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) অধীনে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে একনেকে অনুমোদন পায়। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আতাউর রহমান লিমিটেড ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ধাপে ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথমে এক বছর, এরপর দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি।

পরবর্তীতে আরও পাঁচ দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থ দফায় প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম দফায় ছয় মাস করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। পরে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে অষ্টম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দুই বছরের একটি প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক যুগে।

মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ানো হয় ২৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ১৩২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৫৯ কোটিতে পৌঁছায়। পরে তা সামান্য কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। তবে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলনের পর কাজ ফেলে রেখে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় গত ৭ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল করা হয়।

বর্তমানে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ