Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-আই

আক্রমণভাগের শক্তিতে নতুন স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে

ইউরোপের উদীয়মান ফুটবল শক্তি নরওয়ে বর্তমানে অন্যতম আলোচিত দল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তাদের দুর্দান্ত ও ধারাবাহিক সাফল্য দলটিকে আরো উজ্জিবিত করেছে। শক্তিশালী আক্রমণভাগ, দ্রুতগতির ফুটবল এবং শারীরিক সামর্থ্যের কারণে নরওয়েকে সব দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নরওয়ের অবস্থান ৩১তম। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গড়া দলটি এবার বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চায়।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
নরওয়ে এখন পর্যন্ত তিনবার ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ১৯৩৮ সালে প্রথমবার খেললেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। এরপর ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নেয় দলটি। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোতে পৌঁছে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দেয়। দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর এবার নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আবারও বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে।

শক্তিমত্তা
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গতি ও ফিনিশিং ক্ষমতা। দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা এবং লম্বা পাস থেকে সুযোগ তৈরি করতে তারা দক্ষ। শারীরিকভাবে শক্তিশালী ফুটবলারদের কারণে আকাশে বলের লড়াইয়েও তারা এগিয়ে থাকে। মাঝমাঠে সংগঠিত ফুটবল এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণে ওঠা দলটির অন্যতম কৌশল। এছাড়া সেট-পিস থেকেও তারা খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

দুর্বলতা
তবে নরওয়ের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতার অভাব অনেক সময় চাপের মুহূর্তে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রক্ষণভাগে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা যায় এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝেমধ্যে তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। এছাড়া মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব থাকলে আক্রমণভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
নরওয়ের আক্রমণের সবচেয়ে বড় তারকা ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির এরলিং হলান্ড। তার গোল করার দক্ষতা ও শারীরিক শক্তি দলটির প্রধান অস্ত্র। মাঝমাঠে ইংল্যান্ডের ক্লাব আর্সেনালের হয়ে খেলা মার্টিন ওডেগার্ড দলের আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডিফেন্সে লিও ওস্টিগার্ড ফ্রান্সের ক্লাব রেনের হয়ে রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করেন। গোলপোস্টে অরইয়ান নিয়ল্যান্ড স্পেনের ক্লাব সেভিয়ার হয়ে খেলেন এবং দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা হিসেবে পরিচিত।

প্রতিপক্ষ
গ্রুপ আই-এ নরওয়ের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও ইরাক। এই গ্রুপে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ। যেখানে বিশ্বমানের ডিফেন্স, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগকে মোককাবিলা করা কঠিন হতে পারে। সেনেগালের বিপক্ষে শারীরিক লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তবে টেকনিক্যাললি নরওয়েই এগিয়ে থাকবে। ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ে ফেভারিট হলেও প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে বেগ পেতে হতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
নরওয়েকে এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনাময় দল হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাদের আক্রমণভাগের শক্তি যেকোনো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। যদি রক্ষণভাগ স্থিরতা ধরে রাখতে পারে এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে সক্ষম হয়, তাহলে নকআউট পর্বে অনেক দূল যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ