ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় দফার সংলাপ বিকেলে
দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথম দফায় থেকে যাওয়া মতানৈক্য দূর করাই এবারের সংলাপের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (২ জুন) বিকাল সাড়ে চারটায় রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ সংলাপের উদ্বোধন করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (১ জুন) সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার জানান, ‘সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ ঘোষণা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হবে বলে আশা করছি’।
ঈদের আগে-পরে আরও ২-১টি সংলাপ হবে বলেও জানান তিনি। আজাদ মজুমদার জানান, ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলবে।
সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের জমা দেয়া সুপারিশ পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সংলাপের প্রথম পর্যায়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক করেছে কমিশন।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিস্তৃত সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য অর্জন করলেও প্রথম দফার সংলাপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।
দলগুলো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে সম্মত হলেও এর গঠন এবং মেয়াদ এবং প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধও রয়েই গেছে।
সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষসহ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন এবং বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেয়ার বিষয়েও ঐকমত্য রয়েছে।
তবে উচ্চকক্ষের সদস্যদের নির্বাচনের পদ্ধতি, যেমন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা ঐতিহ্যবাহী ভোটদান ব্যবস্থা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যদিও কিছু দল এখনও বর্তমান এককক্ষ বিশিষ্ট ব্যবস্থা পছন্দ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা আরোপ ও ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব নিয়েও বিভক্ত দলগুলো। বিশেষ করে যে কোনো ব্যক্তিকে একই সাথে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান এবং সংসদ নেতার পদে না রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ এবং আইনি মানদণ্ড তদারকিতে ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো তীব্রভাবে বিভক্ত। সাংবিধানিক কাউন্সিলের গঠন এবং ক্ষমতা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে দলগুলো।
যদিও দলগুলো ‘সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র’ কে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে উন্নীত করার বিষয়ে ব্যাপকভাবে একমত। তবে সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসাবে কমিশন প্রস্তাবিত ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটি ঐকমত্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে