ব্যাট হাতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, রাজকীয় প্রত্যাবর্তন মোসাদ্দেকের
চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। তার অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করেছে বাংলাদেশ।
মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৯৬ রানের জুটি দলকে স্থিতি এনে দেয়।
তামিম ৫৪ রান করে বিদায় নিলেও নিজের ইনিংস এগিয়ে নেন শান্ত। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর তিনি ৬৭ রান করে আউট হন। তবে লিটন দাস মাত্র ৭ রান করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করতে জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুজনে মিলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হৃদয় ৫১ বলে ৩১ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মোসাদ্দেক।
মিডল অর্ডারের অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও মোসাদ্দেক ছিলেন অনড়। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি খেলেন নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসটিতে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও আক্রমণাত্মক শট। এর আগে ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৫২ রান।
শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে মোসাদ্দেককে দারুণ সঙ্গ দেন। তাদের জুটিতে শেষ দিকে দ্রুত রান যোগ করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান জেভিয়ার বার্টলেট।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে মোসাদ্দেকের এমন ইনিংস বাংলাদেশের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও এটি স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে