ঈদযাত্রায় লঞ্চ টার্মিনালে নেই চিরচেনা যাত্রীর চাপ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। তবে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালে চিরচেনা সেই ভিড় নেই।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে ১৫ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও, সেরকম চাহিদা নেই যাত্রীদের মধ্যে। দেখা গেছে, প্রায় সত্তর ভাগ কেবিনের টিকিট অবিক্রিত রয়ে গেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর উন্নত সড়ক যোগাযোগ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রী সংখ্যা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রেলস্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেখা গেছে রাজধানী থেকে সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। সোমবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল। যাত্রীরা জানিয়েছেন, ট্রেন সময়মতো ছাড়ছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো।
রেল কর্তৃপক্ষ ঝামেলামুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে সতর্কতা জোরদার করেছে। "আমরা কঠোরভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি এবং হকার সহ অননুমোদিত ব্যক্তিদের স্টেশনে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না," কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন।
শহরজুড়ে বাস টার্মিনালগুলিও তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিবহন কর্মকর্তারা ঈদের কাছাকাছি সময়ে যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধির আশা করছেন। তারা মনে করছেন, পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার পর যাত্রীর চাপ বাড়বে। যাত্রীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন না বা অতিরিক্ত ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বরিশালগামী লঞ্চগুলি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম যাত্রী নিয়ে চলছে। লঞ্চ মালিকরা বলছেন কেবিনের বেশীরভাগ টিকিট বিক্রি হয়নি। "এবার, মানুষ আসছে না," পারাবত লঞ্চের মালিক মোহাম্মদ হাবিব বলেন। "গার্মেন্ট ছুটি শুরু হওয়ার পরে আমরা এখন শেষ মুহূর্তের যাত্রীদের উপর নির্ভর করছি।"
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ৩ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে বিশেষ পরিষেবা চালু করেছে। তবে যাত্রীদের সংখ্যা কম থাকায়, লঞ্চ অপারেটররা আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে