হ্যাটট্রিকে ৬ বছর পর বায়ার্নকে শিরোপা জেতালেন কেইন
প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলে বায়ার্ন মিউনিখকে রুখে দিয়েছিল স্টুটগার্ট। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর ইংলিশ গোলমেশিন হ্যারি কেইনের গোলবন্যা ঠেকাতে পারল না তারা। কেইনের দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে দীর্ঘ ৬ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে জার্মান কাপের (ডিএফবি-পোকাল) শিরোপা ঘরে তুলল বায়ার্ন মিউনিখ।
শনিবার (২৩ মে) রাতে বার্লিনে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন। ২০২০ সালের পর এই প্রথম জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় শীর্ষ মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের ট্রফি উঁচিয়ে ধরল ব্যাভারিয়ানরা। সব মিলিয়ে এটি বায়ার্নের ২১তম জার্মান কাপ শিরোপা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চললেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। বায়ার্নকে গোলবঞ্চিত রাখতে স্টুটগার্ট সফল হলেও নিজেরা আক্রমণভাগে সুবিধা করতে পারেনি। অন্যদিকে, কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ব্যর্থ হলে গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই খোলস ছেড়ে বের হয় বায়ার্ন। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কেইন। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে স্টুটগার্টের জাল কাঁপান ইংলিশ অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে জার্মানির ফুটবল ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে জার্মান কাপের ফাইনালসহ প্রতিটি রাউন্ডে গোল করার অনন্য এক কীর্তি অর্জন করেন কেইন।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি পান এই অভিজ্ঞ তারকা। বায়ার্নের একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বল পান লুইস দিয়াজ। দিয়াজ দারুণ বুদ্ধিমত্তায় ফিরতি বল কেইনের দিকে বাড়িয়ে দিলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
এরপর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে স্টুটগার্টের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন কেইন। স্টুটগার্টের ডি-বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে সহজেই বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন কেইন।
এই হ্যাটট্রিকের পর বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে চলতি মৌসুমে ৫১ ম্যাচে কেইনের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৬১-তে! ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এমন অবিশ্বাস্য ফর্ম নিশ্চিতভাবেই আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে