শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে মোদিকে প্রশ্ন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর
৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ভারতে তার রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি বারবার উঠতে থাকে। এবার একই ইস্যুতে প্রশ্ন তুললেন প্রতিবেশী দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন।
ঝাড়খন্ড বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহার প্রকাশকালে রোববার (৩ নভেম্বর) হেমন্ত সরেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর জবাবে অমিত শাহের কাছে ভারতে শেখ হাসিনার আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান হেমন্ত।
অমিত শাহের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেও আঙুল তোলেন ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতাসীন জেএমএম। বলেন, ‘কীসের ভিত্তিতে হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছে মোদি সরকার? শেখ হাসিনার হেলিকপ্টার এখানে কেন নামল? আমি জানতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপির কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া আছে কি-না?’
হেমন্ত সোরেনের দাবি, ঝাড়খণ্ডে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সৃষ্ট দূষণ মোকাবেলা করছেন রাজ্যের মানুষ।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত পাহারা দেয়া এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দায়িত্ব কি কেন্দ্রের নয়? এতে রাজ্য সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। বিজেপি শাসিত রাজ্য দিয়ে ভারতে ঢুকছেন অনুপ্রবেশকারীরা। সেখানে অনুপ্রবেশের তদন্ত করছেন না কেন?’
৮১ আসনের ঝাড়খন্ড বিধানসভার ভোট হবে ১৩ ও ২০ নভেম্বর দুই দফায়। ভোটগণনা হবে ২৩ নভেম্বর। ঝাড়খন্ডের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল জেএমএম বিজেপি বিরোধী জোট ‘ভারত’-এর হয়ে নির্বাচনে লড়ছে।
হেমন্ত সরেন বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে আপনারা ভোটব্যাংক তৈরি করেছেন। আজ আমি ঝাড়খন্ডের জনগণকে জানাতে চাই যে, বিজেপি তোষণের রাজনীতি শেষ করে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব এবং ঝাড়খন্ডকে শূন্য থেকে পুনর্গঠন করব’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে