গ্রুপ-আই
লড়াকু মানসিকতা আর দলীয় সংহতিতে চমক দেখাতে চায় ইরাক
এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তিগুলোর মধ্যে ইরাক অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি তাদের লড়াকু মানসিকতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং দলীয় সংহতির জন্য পরিচিত। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব বড় পরাশক্তি না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরাকের অবস্থান ৫৭তম। বাছাই পর্বে অন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে তারা ল্যাটিন শক্তি প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যায়গা করে নেয়। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি এবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
ইরাক এখন পর্যন্ত একবারই ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেললেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলটিকে। তবে এশিয়ান ফুটবলে ইরাকের কিছু স্মরণীয় সাফল্য রয়েছে। ২০০৭ সালে এএফসি এশিয়ান কাপ জিতে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় তারা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফুটবলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য দলটি প্রশংসিত।
শক্তিমত্তা
ইরাকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলীয় সংহতি ও লড়াই করার মানসিকতা। পুরো দল একসঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণে অংশ নেয়, যা তাদের সংগঠিত ফুটবল খেলতে সাহায্য করে। মাঝমাঠে তারা পরিশ্রমী এবং বল দখলের জন্য কঠিন লড়াই করতে পারে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ও সেট-পিস থেকেও তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে সক্ষম। এছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের গতি ও উদ্যম দলটিকে বাড়তি শক্তি দেয়।
দুর্বলতা
ইরাকের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হওয়ায় চাপের মুহূর্তে ভুল করার প্রবণতা দেখা যায়। আক্রমণে ধারাবাহিক ফিনিশিংয়ের অভাব রয়েছে এবং মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতিও কখনো কখনো চোখে পড়ে। রক্ষণভাগে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সহজেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
ইরাকের গোলপোস্টে জালাল হাসান দলের অভিজ্ঞ ভরসা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইরাকের ক্লাব আল-জাওরার হয়ে খেলেন। ডিফেন্সে রেবিন সোলাকা থাইল্যান্ডের ক্লাব পোর্ট এফসির হয়ে রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে সামলানোর চেষ্টা করেন। মাঝমাঠে আমির আল-আম্মারি পোল্যান্ডের ক্লাব ক্রাকোভিয়ার হয়ে খেলেন এবং দলের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আক্রমণে আইমান হুসেইন ইরাকের ক্লাব আল-কারমার হয়ে খেলেন। গোল করার দক্ষতা ও শারীরিক শক্তির জন্য তিনি দলের অন্যতম বড় অস্ত্র।
প্রতিপক্ষ
গ্রুপ আই-এ ইরাকের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। এই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ, যেখানে বিশ্বমানের আক্রমণভাগ সামলানো বড় পরীক্ষা হবে। সেনেগালের বিপক্ষে শারীরিক লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে ইরাককে। নরওয়ের বিপক্ষে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও কঠিন হতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
ইরাককে এবারের বিশ্বকাপে হারানোর কিছু নেই। এর মধ্যেই তাদের লড়াকু মানসিকতা ও দলীয় ঐক্য যেকোনো প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। যদি তারা রক্ষণে স্থিরতা ধরে রাখতে পারে এবং আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে গ্রুপ পর্বে চমক দেখানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে