যুক্তরাষ্ট্র ভুল করলে ‘তৃতীয় ধাপের বড় শাস্তি’ দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধমুখী অবস্থান বিবেচনায় রেখে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুতিতে রেখেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের ইঙ্গিত মিললেও আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার যেকোনো সম্ভাবনার জন্য তারা প্রস্তুত। ইরান এর আগেও স্পষ্ট করেছিল যে, ট্রিগারে হাত রেখেই তারা আলোচনায় বসবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা রয়েছে। তবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই চুক্তিকালীন সময়ে যদি আমেরিকা কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে তার জবাব হবে অতীতের যেকোনো বারের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ভয়াবহ।
তাসনিম নিউজকে দেওয়া ইরানের একটি সামরিক সূত্র জানায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভুল হিসাব-নিকাশ করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘অপরাধমূলক’ পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা ‘ইরানের তৃতীয় ধাপের মোকাবিলার’ মুখে পড়বে। সূত্রটি দাবি করেছে, এই নতুন রণকৌশল, সামরিক পদ্ধতি, লক্ষ্য এবং ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রের দিক থেকে আগের দুই সংঘাতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিধ্বংসী হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণা এসেছে। পরবর্তীতে তেহরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইরানের তিন জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান এই সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে।
এদিকে, চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। তাসনিম নিউজের রবিবার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রশাসন আলোচনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে। এর বিপরীতে ইরানও পাল্টা কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
ইরান মূলত তাদের বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা (ফ্রোজেন) সম্পদের ওপর জোর দিয়েছে। সামরিক সূত্রটি জানিয়েছে, ইরান চুক্তির প্রথম ধাপেই তাদের জব্দকৃত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরত চায়। একই সঙ্গে বাকি সম্পদ ধাপে ধাপে ও নিশ্চিতভাবে হস্তান্তরের একটি পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও বাস্তব ব্যবস্থা ছাড়া কোনো চুক্তিতে সই করবে না তেহরান।
বিষয়টি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী এবং আলোচনায় যুক্ত কিছু আঞ্চলিক দেশকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে, তারা তাদের ‘লাল সীমা’ (রেড লাইন) থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে আসবে না। অতীতে চুক্তি আলোচনা চলার সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর ইতিহাস থাকায়, এবার কোনো কাগজে-কলমের অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করতে নারাজ তেহরান।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে