Views Bangladesh Logo

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা নিয়ে চলছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

গের বৈঠকে অগ্রগতির কথা জানানোর পর ওমানের রাজধানী মাসকটে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি ও উচ্চপর্যায়ের পরমাণু আলোচনা চলছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, আলোচনার শুরুতে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক এবং পরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই পক্ষ।

শনিবারের (২৬ এপ্রিল) এই আলোচনায় তেহরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। নিউইয়র্ক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। এরপর উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ দপ্তরের প্রধান মাইকেল অ্যান্টন নেতৃত্ব দিচ্ছেন কারিগরি পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদলকে। তেহরানের কারিগরি দলে রয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ও মাজিদ তাখত-রাভানচি।

এএফপি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ‘সতর্ক আশাবাদ’ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র দাবি হয়, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখে, তবে এই দাবি পূরণযোগ্য’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো অবাস্তব বা অযৌক্তিক হয়, তাহলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়বো’।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘বোমা ফেলার চেয়ে চুক্তি হওয়া অনেক বেশি শান্তি’।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকাই একইদিন জানান, মাসকাট ও রোমে গত দুই শনিবার যেভাবে আলোচনা হয়েছে, তেমনি এবারও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাঈদির মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।

এক্স-এ দেয়া বার্তায় বাকাই বলেছেন, ‘ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য এবং আমাদের কর্মসূচি যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তা দেখাতে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি’। তিনি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত দ্রুত’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও ইরানের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী শত্রুদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি চালু করেছেন। মার্চ মাসে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে চিঠি লিখে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্কও করেছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে-যা তেহরান ‘শত্রুভাবাপন্ন’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, যা ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে তেহরান। ইরান সব সময় দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ