মণিপুরে ৯০০ কুকি জঙ্গির অনুপ্রবেশ, সীমান্তে সতর্ক ভারত
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে ৯০০ কুকি জঙ্গির অশান্ত মণিপুর রাজ্যে অনুপ্রবেশের খবরে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) জানান, সন্দেহভাজন ওই জঙ্গিদের সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছেন তারা।
সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতি এবং খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সংঘাতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত মণিপুর, যা রাজ্যটিকে জাতিগত ছিটমহলে বিভক্ত করেছে। সহিংসতায় অন্তত আড়াই শ জনের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এক হাজারেরও বেশি আহত এবং ৩২ জন নিখোঁজ ছাড়াও চার হাজার ৭৮৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মন্দির ও গীর্জা সহ ৩৮৬টি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সাংবাদিকদের জানান, সীমান্ত চৌকিগুলোকে ‘সতর্ক’ করা হয়েছে এবং দুর্গম এলাকায় ‘চিরুণি অভিযান’ চালাবে নিরাপত্তা বাহিনী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়, গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত অনুপ্রবেশকারীরা কুকি জঙ্গিরা অস্ত্রযুক্ত ড্রোন বহন করে এনেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যৌথ অভিযানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
সংখ্যালঘু কুকিদের মতোই সমান ইতিবাচক সুবিধা পেতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতি সম্প্রদায়ের কিছু লোক রাজ্যের শীর্ষ আদালতে আবেদন জানালে গত বছরের এপ্রিল থেকে চরম উত্তেজনা চলছে মণিপুর রাজ্যজুড়ে।
এদিকে পাহাড়ে বসবাসকারী কুকিদের সাথে সাংস্কৃতিক, পারিবারিক এবং ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে মায়ানমারের কুকি উপজাতি জনগোষ্ঠীর। ভারতের প্রতিবেশি দেশটিতে ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে কয়েক ডজন সশস্ত্র গোষ্ঠী।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে