Views Bangladesh Logo

নিয়ন্ত্রণহীন সবজি বাজার

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে

মাদের দেশে সবজিচাষিরা অধিকাংশই প্রান্তিক। তারা শত অভাবের মাঝেও ধারদেনা করে সবজি চাষ করেন। কিন্তু সবজিচাষিরা অধিকাংশ সময় বাজারের সিন্ডিকেট চক্রের কারণে তাদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পান না। উৎপাদিত ফসলের বেশির ভাগ সুবিধা ভোগ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা, যা দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক।

গত ১৯ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো তার একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে ‘উৎপাদনস্থলের চেয়ে ঢাকায় সবজির দাম দ্বিগুণ’। এ প্রতিবেদনটি বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বলছে, কৃষকের কাছ থেকে কেনা সবজি হাতবদলের পর মধ্যস্বত্বভোগীরা দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন। সিন্ডিকেটের কারণে ভরা মৌসুমে বাজারে সবজির দাম চড়া। কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনে কমতি নেই। তবুও বেড়েই চলছে সবজির দাম।

এবার শীতের পুরো মৌসুমেই বাজারে সবজির দাম বেশি দেখা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে একটু কমলেও ভরা মৌসুমে এসে সবজির বাজার যেভাবে নামতে শুরু করে, এবার সেই প্রবণতা নেই। উল্টো মৌসুমের শেষ দিকে এসে সবজির দাম বাড়তি দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এবার আলুর দাম বেশি। তাতে অন্যান্য সবজির দাম কমছে না। কারণ, সবজির মধ্যে আলু কমবেশি সবাই কেনেন। সেটাই বাড়তি দামে কিনতে হলে বিক্রেতারা অন্যান্য সবজির দাম আর কমান না। এদিকে বাজারে চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল হয়ে আছে।

এমতাবস্থায় আমরা মনে করি, নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান অস্থিরতা দূর করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবসায়ীদের অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙাতে হবে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে। অনিয়ম লুটপাট বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দেশে কৃষিপণ্যের দর নির্ধারণ নীতিমালার আওতায় একটি সর্বজনীন মূল্য কমিশন গড়ে তোলা দরকার। সেই সঙ্গে দরকার ফসলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা। কৃষিপণ্যের জন্য সরকারিভাবে মূল্য কমিশন গঠিত হলে কৃষকরা যেমন তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যও কমবে। অবশেষে বলতে চাই, সরকার সবজির বাজারসহ নিত্যপণ্যের বাজারদরে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে–এটাই প্রত্যাশা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ