Views Bangladesh Logo

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Kamrul  Hasan

কামরুল হাসান

গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে আমলে নেবে তার মন্ত্রণালয় বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ সামন্ত লাল সেন। ভিউজ বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন সরকারের এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।

গ্রাম বা প্রান্তিক অঞ্চলের কেউ অসুস্থ হলে বিভাগীয় শহর বা রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে আসার আগেই যেন প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য চিকিৎসা সেবার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির এই সমন্বয়কারী।

নন কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) বা অসংক্রামক রোগ (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কিডনির রোগ, হাইপারটেনশন ও ইত্যাদি) নিরাময় হবে তার কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এনসিডি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে দেশের স্বাস্থ্যখাতকেও সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রতিটি স্তরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যন্ত বা গ্রামীণ এলাকাতেও যেন রোগীরা প্রয়োজনের সময় তাত্ক্ষণিক সহায়তা পায় সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে।‘

এনসিডি রোগীদের জন্য জেলা পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘একজন এনসিডি রোগীকে প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদানের জন্য ঘন্টা সময় নেওয়া হবে মারাত্মক ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। আমরা জেলা পর্যায়ে এ ধরণের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে চাই। তারপর প্রয়োজনে তাদের বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে নেওয়া যেতে পারে।‘

প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতালের মতো প্রকল্পগুলোর কাজ এখন ভালভাবে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এনসিডি স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ পরিষেবা হিসাবে যুক্ত করা যেতে পারে। জেলাতেও এটির প্রাথমিক চিকিত্সার সুবিধা থাকা উচিত। যেন রোগীরা তাদের জেলাগুলোতেই প্রাথমিক পরিষেবা পেতে পারেন।"

স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা শুরু হয়েছে এবং উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান অধ্যাপক ডাঃ সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঢাকা এবং বিভাগীইয় শহরগুলোর হাসপাতালে সহজেই পরিষেবা পাওয়া যায়। তবে এখন পরিষেবাগুলো যেন কার্যকর ভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা যায় আমরা সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।‘

বাংলাদেশ এনসিডি রিস্ক ফ্যাক্টর সার্ভে ২০১৮ অনুসারে, অধিকাংশ মানুষের মধ্যে এনসিডিতে আক্রান্ত হওয়ার একটি বা দুটি লক্ষণ রয়েছে। জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে তিন বা ততোধিক ঝুঁকির লক্ষন রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় তার ৬৭ শতাংশের জন্য দায়ি এনসিডি। ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে এনসিডির কারণে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন। এনসিডি খুব খারাপ ভাবে দরিদ্রদের ক্ষতিগ্রস্থ করে। এটি আসলে রোগ, দারিদ্র্য এবং অ-উৎপাদনশীলতার একটি দুষ্ট চক্র।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনসিডির প্রভাব কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) সুবিধাগুলর সঙ্গে এনসিডিকে যুক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ রোগগুলো বুঝতে ও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি রোগ-সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে বসে কৌশল ঠিক করবেন।
‘আমাদের জনস্বাস্থ্যের উপর আরও গবেষণা করতে হবে এবং নিজেদের উন্নতির জন্য প্রতিরোধের আরও ভাল উপায় খুঁজে বের করতে হবে’ বলেও যোগ করেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থা দৃঢ় থাকবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
পেশাগত জীবনে নিজে দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং এটি কীভাবে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে তা বুঝতে পারেন বলেও যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনই কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলাম না, এখনো জড়িত নই এবং কখনই হব না। কিন্তু এই খাতকে পরিবর্তন করতে সময়ের প্রয়োজন। আমি যদি এখানে থাকি এবং আমার কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারি তাহলে দৃশ্যপট অবশ্যই বদলে যাবে।‘

বার্ন ইনস্টিটিউটে তার ভূমিকা কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও তাকে মন্ত্রণালয়ের সাথে নেওয়া হয়েছে তবে তার সময়ের একটি অংশ সবসময় পোড়া রোগীদের জন্য থাকবে।

‘আমি এটি ছেড়ে যেতে পারি না’ বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ