দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার: চিফ প্রসিকিউটর
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রক্রিয়াগত প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে। তবে মামলা ও অভিযোগের সংখ্যা ও জটিলতা বাড়ার কারণে নতুন একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করতে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল এখন খুবই জরুরি। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি অভিযোগ তদন্তাধীন।
তদন্ত সংস্থার মতে, এ পর্যন্ত ২২টি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ২২টি ‘মিস কেস’-এ অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪১ জন। তাদের মধ্যে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত তদন্ত ও বিচার কাজ শেষ করতে। এজন্য প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুরোদমে কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে চিফ প্রসিকিউটরসহ ১৭ জন প্রসিকিউটর বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। অপরদিকে, ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে