আইনজীবী আলিফ হত্যায় বাবা-ভাইয়ের দুই মামলা
চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে কুপিয়ে সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন। সহিংস সংঘর্ষের সময় আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং আদালত ভবন ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন সাইফুলের ছোট ভাই খান-ই-আলম।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বন্দরনগরীর কোতোয়ালি থানায় করা হত্যা মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১৫ জনকে এবং সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় ১১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় পুলিশকে লাঞ্ছিত, ভাঙচুর ও বাধা দেয়ার অভিযোগে ৭৯ জনের নাম উল্লেখ ও প্রায় ১ হাজার ৪০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেই তিনটি মামলা করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সাইফুল হত্যায় জড়িত ৯ জনসহ ৩৮ সন্দেহভাজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতের বাবা জামাল উদ্দিনের করা হত্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আদালত চত্বরে স্লোগান দিতে দিতে ছুরি, ত্রিশূল ও ক্লিভার নিয়ে সাইফুলের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী।
বাদীর দাবি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলো সংশ্লিষ্টরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে উসকানি দিয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যার পর সাইফুলের সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সাইফুলের পরিবার বলছে, দাফন-কাফন ও পারিবারিক শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। দুই মামলায়ই নিরীহ কাউকে নয়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদেরই আসামি করা হয়েছে।
পুলিশও দাবি করছে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোকে ঘিরে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে আদালত ভবনের মূল ফটকের সামনে রঙ্গম সিনেমা হল-সংলগ্ন এলাকায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে