Views Bangladesh Logo

জালিয়াতির দায়ে ৪৭১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নোটিশ পেলেন ৬৩ জন

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শো-কৈফিয়ত) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জমা দেওয়া শিক্ষাগত সনদ যাচাই-বাছাইয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু সনদ জাল, ভুয়া এবং তথ্য গোপন করে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

শনিবার (২৩ মে) অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক নোটিশ জারি করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত, স্থায়ী বরখাস্ত, এমপিও সুবিধা বাতিল বা স্থায়ী চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রাথমিকভাবে এই সনদগুলোকে জাল বা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে তারা মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী মাউশিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকতা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পেশা। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই পেশায় প্রবেশ করা কেবল ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় হুমকি।

কর্মকর্তারা আরও জানান, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ শিক্ষক অযথা হয়রানির শিকার না হন।

অভিযুক্তদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা রয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ অনিয়ম ও জাল সনদের কেলেঙ্কারিতে সমালোচিত এই খাতে সরকারের এমন বড় ধরনের পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। এদিকে, বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে একই সাথে তারা তদন্ত প্রক্রিয়াটি যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও পক্ষপাতহীন হয়, সে বিষয়েও জোর দিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। বাকি অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ