গ্রুপ-জে
মরুর যোদ্ধাদের নতুন স্বপ্ন, বিশ্বমঞ্চে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া
আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল আলজেরিয়া আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে দলটি নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত এক দশকে আফ্রিকান ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, টেকনিক্যাল ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে আলজেরিয়া বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। মরুভূমির দেশটির ফুটবলাররা গতি, দক্ষতা ও লড়াই করার মানসিকতার জন্য পরিচিত। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে আলজেরিয়া ২৮তম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে তারা শীর্ষ ফেবারিট না হলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সামর্থ্য রাখে। এবারের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
আলজেরিয়া প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৮২ সালে। সেই আসরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে চমক সৃষ্টি করেছিল তারা। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্য আসে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। ওই আসরে আলজেরিয়া প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে এবং শেষ ষোলোতে জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে অতিরিক্ত সময়ে পরাজিত হয়। তাদের সাহসী পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও আলজেরিয়ার সাফল্য রয়েছে। ২০১৯ সালে তারা আফ্রিকা সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বর্তমানে কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচের অধীনে দলটি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে।
শক্তিমত্তা
আলজেরিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের টেকনিক্যাল ফুটবল এবং দ্রুতগতির আক্রমণভাগ। দলটির খেলোয়াড়রা বল নিয়ন্ত্রণে দক্ষ এবং ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারে। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ চালানো এবং কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা তাদের বড় অস্ত্র। মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও রক্ষণভাগে শৃঙ্খলাও দলটির গুরুত্বপূর্ণ দিক। এছাড়া বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা আলজেরিয়াকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। দলীয় সমন্বয় এবং আক্রমণ-রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা তাদের অন্যতম শক্তি।
দুর্বলতা
আলজেরিয়ার প্রধান দুর্বলতা হলো ধারাবাহিকতার অভাব। কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলটি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারে না। রক্ষণভাগে মাঝে মাঝে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়, বিশেষ করে দ্রুতগতির প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এছাড়া অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে মাঝমাঠে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে পারে। গোল করার সুযোগ তৈরি হলেও অনেক সময় তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা যায়। বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখাও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
আলজেরিয়া দলে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার রয়েছেন। অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ সৌদি আরবের ক্লাব আল আহলির হয়ে খেলেন এবং দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা। তার ড্রিবলিং, গতি ও অভিজ্ঞতা আলজেরিয়ার বড় শক্তি। ফরোয়ার্ড বাগদাদ বুনেদজাহ আক্রমণে গোল করার দায়িত্ব পালন করেন। মিডফিল্ডার ইসমায়েল বেনাসের ফ্রান্সের ক্লাব মার্সেইয়ের হয়ে খেলেন এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডিফেন্ডার আইসা মান্দি রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতার ছাপ রাখেন। গোলরক্ষক অ্যান্থনি ম্যান্ড্রেয়াও দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য।
সম্ভাবনা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আলজেরিয়া আফ্রিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং দলীয় সংহতি ধরে রাখতে পারলে আলজেরিয়া এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখানোর সামর্থ্য রাখে। আফ্রিকান ফুটবলের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বমঞ্চে নামবে মরুর যোদ্ধারা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে