Views Bangladesh Logo

নাম গোপন রেখে চবির নারী শিক্ষার্থীকে অশালীন মন্তব্য শিবিরকর্মীর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপে নাম গোপন রেখে এক নারী শিক্ষার্থীকে অশালীন ভাষায় হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফেসবুকে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি আলি আহসান মোজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী। এ ছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'ভয়েস অব স্টুডেন্টস'-এর জনসংযোগ সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপ ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’-এ ছাত্রীদের আবাসিক শামসুন নাহার হল ও হল সংসদ নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মন্তব্য করলে মোজাহিদ পরিচয় গোপন রেখে (অ্যানোনিমাস) তার উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটরের সহায়তায় তার পরিচয় উন্মোচিত হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি মোজাহিদকে সরাসরি মেসেজ করি। তিনি ঘটনা স্বীকার করেন এবং জানান যে তাকে এমন মন্তব্য করতে বলা হয়েছিল। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে ছদ্মনামে এ ধরনের হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে আমি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আছি। ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

এ বিষয়ে জানতে মোজাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ মোজাহিদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মোজাহিদ নিচের সারির একজন কর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে নিষ্ক্রিয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি জানান, ভুক্তভোগী বর্তমানে বাড়িতে থাকায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার সম্মতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগিং ও বুলিং প্রতিরোধ সেলে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং চাকসুর ফ্রি লিগ্যাল সেলের মাধ্যমে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত সেলের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ