নারী ফুটবলে সংকট: মাঠে ফেরা না ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিদ্রোহীদেরই
নারী ফুটবল দলে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সহসাই তার সুরাহা হচ্ছে না বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেও বিদ্রোহী ফুটবলারদের মাঠে ফেরাতে পারেননি। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ১৮ ফুটবলার ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে যোগ দেননি। কোচ ও খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব ঘিরে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এতে বেশ বিপাকেই পড়েছে বাফুফে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে বাফুফে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এখন মাঠে ফেরা না ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিদ্রোহী ফুটবলারদেরই।
কোচ বাটলারের সঙ্গে নারী ফুটলারদের সমস্যাটা গত অক্টোবর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শুরু হয়েছে। কোচ ও খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বের মধ্যেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারিতে যখন নতুন করে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করেন কোচ বাটলার, তখনই বিপত্তি বাধে। এই কোচের অধীনে অনুশীলন বয়কট করেন সাবিনারা। ফলে নতুন করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসে।
গত ৩০ জানুয়ারি সাফজয়ী কোচ বাটলারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ চেয়ে বাফুফের কাছে চিঠি দেয় বিদ্রোহী ১৮ নারী ফুটবলার। ‘হয় কোচ থাকবে, নতুবা আমরা’- সাবিনাদের এমন শক্ত অবস্থানে ফুটবলে অচলাবস্থা তৈরি হলে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বাফুফে। এ কমিটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাফুফে সভাপতির দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই দিন গভীর রাতে বাফুফেতে ছুটে যান তাবিথ আউয়াল। সাবিনাদের সঙ্গে আলোচনা বসেন। তাদের মাঠে ফেরার অনুরোধ করেন। কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনঢ় থাকেন তারা। ফলে বিদ্রোহী ফুটবলারদের বাদ দিয়েই সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের দল নিয়ে ভাবছে বাফুফে।
কোচ বাটলারও নতুন ফুটবলারদের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ কমিটির কাজ চলাকালীন কোচ বাটলার বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেন, ‘হয় সাবিনারা থাকবেন, না হয় তিনি থাকবেন।’
গত শনিবার নিজের শক্ত অবস্থান থেকে সরে এসে ইংলিশ কোচ বলেছেন, সাবিনারা অনুশীলনে যোগ দিলে তাদের স্বাগত জানাবেন তিনি। কিন্তু বিদ্রোহী ফুটবলাররা সে আহ্বানে সাড়া দেননি।
নারী ফুটবলারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত অক্টোবরে। তাদের সঙ্গে বোর্ডের নতুন করে চুক্তি হবে আগামী মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি)। এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পে থাকা ৩০ ফুটবলারের মধ্যে বিদ্রোহী ছাড়া বাকি ১২ জনের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন। এই ১২ ফুটবলারসহ বর্তমানে কোচ বাটলারের ক্যাম্পে আছেন ৩৭ নারী ফুটবলার। তারা বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়। ভবিষ্যতের জন্য নতুনদের তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন কোচ বাটলার।
বিদ্রোহী ফুটবলারদের বিবেচনায় না রেখে নতুনদের মধ্য থেকে ফুটবলার বাছাই করে আমিরাতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। সিনিয়র ফুটবলার সাবিনা খাতুনদের ছাড়েই কী দল গঠন হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।’
বর্তমান সংকট নিয়ে কথা বলেছেন বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ। রবিবার বাফুফে ভবনে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় আছে বাফুফে। দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। সভাপতি খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। আগামী বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবার আবারও যুক্তরাজ্যে যাবেন বাফুফে সভাপতি। এর আগে নারী ফুটবলের সংকট নিরসনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরেফ জানান, নারী ফুটবলের চলমান সমস্যা সমাধান হওয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করবে বাফুফে।
ফুটবলার ও কোচ দ্বদ্বের প্রসঙ্গে আরেফ বলেন, যার যার ভালো, তার তার বুঝতে হবে। এই মেয়েরা আমাদের জাতীয় অহংকার। তাদেরও ভাবতে হবে। কোচ কোচের জায়গায় থাকবে। খেলোয়াড় তার জায়গায় থাকবে। কোচের দায়িত্ব হলো প্রশিক্ষণ দেয়া। খেলোয়াড়ের দায়িত্ব হলো প্রশিক্ষণ নেয়া। যার যার ইমেজ তাকেই ধরে রাখতে হবে। আমার মনে হয়, এটার সমাধান খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে