ভারতে মিলল করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘জেএন.১’
অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের পর করোনাভাইরাসের আরও একটি নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মিলল ভারতে। নতুন ভ্যারিয়েন্টটির নাম ‘জেএন.১’।
নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাবের ফলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এআইটিআই আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ডক্টর ভি কে পলের মতে, ভারতজুড়ে এখনো পর্যন্ত জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টের মোট ২১ জন করোনা রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়ায় ১৯ জনের দেহে জেএন.১ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও কেরালায় একজন ও মহারাষ্ট্রে একজনের দেহে মেলে করোনার এ নতুন ভ্যারিয়েন্ট।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টটি চলতি বছরের শেষের দিকে আবির্ভূত হয়েছিল। এটি এসএআরএস-২ এর এসএআরএস-সিওভি-২ এর বি.এ.২.৮৬ বংশের বংশধর।
এই নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করেছে তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এরইমধ্যে ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশে এই ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মিলেছে।
দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনার এই নতুন ধরন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন তারা।
সাফদারজং হাসপাতালের পালমোনারি মেডিসিনের প্রধান ডা. রোহিত কুমার বলেছেন, ‘কোভিড হলো একটি আরএনএ ভাইরাস, যা সময়ে সময়ে তার রূপ পরিবর্তন করে এবং এর নতুন রূপ বের হয়। এখন একটি নতুন রূপ আবির্ভূত হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে জেএন.১। তবে, রাজধানীর দিল্লিতে এখনো কারও দেহে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের খবর প্রকাশ্যে আসেনি ‘
তিনি আরও বলেন, "গলা ব্যথা, কাশি, সর্দি, বুকে ব্যথা বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন এবং হাঁপানি রোগীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার।
ডাঃ রোহিত কুমার আরও উল্লেখ করেন, এই মৌসুমে গুরুতর রোগগুলির ব্যাপারে মানুষদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ কোভিডের কারণে যারা মারা যাচ্ছে তাদের প্রায়ই হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগে গুরুতর অসুস্থ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে