ধোলাইখালে জবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ৭
পুরান ঢাকার ধোলাইখালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মার্চ) রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান সম্রাট ধোলাইখালের এক মার্কেটের সামনে নতুন ঢালাই করা কংক্রিটের ওপর ভুলবশত পা রাখেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং তাকে মারধর করা হয়।
সম্রাট তার বন্ধুদের ডাকলে হাবিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তাদেরও আটক করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর এই ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয়রা বিএনপির ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক শহীদের নেতৃত্বে আরও এক দফা হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষ রাতভর চলতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘসময় ধরে চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়ি ও একটি স্থানীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমরা শুনেছি, জবির একজন শিক্ষার্থীকে কিছু লোক আটক করেছিল, তবে কারা এর জন্য দায়ী, তা নিশ্চিত নই। কিন্তু এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় নিরীহ বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
জবি শিক্ষার্থী আল ফাহাদ নয়ন বলেন, ‘বিএনপি নেতা শহীদুল হকের নেতৃত্বে স্থানীয়রা বিনা কারণে নাহিদ হাসানকে মারধর করেছে। তাকে রক্ষা করতে গেলে আমাদের বন্ধুরাও হামলার শিকার হন ও আটক হন। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করতে গেলে আমরাও হামলার শিকার হই। কীভাবে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়? আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মল হক বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরই আমি কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, বংশাল ও ওয়ারী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে আনে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
ওয়ারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়রা একজন জবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও আটক করায় একটি তুচ্ছ ঘটনা বড় আকার ধারণ করে। এরপর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএনপি নেতা শহীদুল হক শহীদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। পরিস্থিতি রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপি নেতা শহীদুল হক শহীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে