টাকার অভাবে আইসিইউতে নিতে পারেননি কৃষক বাবা, হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় হামের উপসর্গ ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাত বছরের শিশু ইব্রাহিম খলিল ওরফে সামিতের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। রোববার ভোরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সামিত পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের পূর্ব চরবাটা গ্রামের কৃষক মফিজুল হকের ছেলে। তিন সন্তানের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বড় দুই সন্তানের জন্মের প্রায় নয় বছর পর সামিতের জন্ম হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। ছেলের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন কৃষক বাবা মফিজুল হক।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় ১০ দিন আগে সামিত জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে তার শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পরও অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিশুটির মামা আবদুল খালেক জানান, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শিশুটিকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ সুবিধার আওতায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ না থাকায় ঢাকায় নেওয়ার কথা বলা হয়। ধারদেনা করেও ঢাকায় নেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় করতে পারেনি পরিবারটি।
তিনি বলেন, স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হলেও হাম উপসর্গ থাকায় তারা রোগী নিতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা চালানো হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংকটাপন্ন চিকিৎসা না পাওয়ায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আইসিইউ বেড থাকলেও শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ নেই। এ কারণে গুরুতর শিশু রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। সামিতের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে