Views Bangladesh Logo

ক্যাপিটাল মার্কেট বিকেম এ ক্যাসিনো: আমীর খসরু

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ত ১৫ বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে ক্যাসিনোতে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট বিকেম এ ক্যাসিনো, ইজ নট এ ক্যাপিটাল মার্কেট। একটি গোষ্ঠী এই ক্যাসিনোর মালিক। আপনি ক্যাসিনোতে ঢুকবেন, খেলবেন, কিন্তু দিনের শেষে মুনাফা যাবে সেই মালিকের ঘরে।

শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপটির আয়োজন করে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ ও আইসিএমএবির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

আমীর খসরু বলেন, এক সময় দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ভালো করছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে এটি ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি কী, আমি বলব—এক নম্বর হলো বিনিয়োগ, দুই নম্বর বিনিয়োগ, তিন নম্বরও বিনিয়োগ। এর বাইরে কিছু নেই। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগে জোর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের অর্থের উৎস হতে হবে ক্যাপিটাল মার্কেট। এখান থেকেই সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর উভয়ই অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। অথচ আমরা এখন আইএমএফ-এর পেছনে ঘুরছি মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলারের জন্য। এই অঙ্কটা কোনো দেশের জন্যই বড় কিছু নয়।

বিএনপি নেতা বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ক্যাপিটাল মার্কেটে ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার এলোকেশন হয়। এর বড় অংশ আসে সার্বভৌম তহবিল, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। ভিয়েতনাম একাই ৩০০ বিলিয়ন ডলার আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশ যদি ১০০–২০০ বিলিয়ন ডলার আনতে পারে, তাহলে আমাদের বিনিয়োগ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটকে রাজনৈতিক মালিকানার আওতায় আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি। কিন্তু বাংলাদেশে কেউ এ জায়গাটাতে হাত দিতে চায় না।

তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকা অনেক বিনিয়োগকারী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বাংলাদেশে আসতে চায়, তবে একটি ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কেউ ১০ বিলিয়ন, কেউ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ফান্ড ম্যানেজ করেছে। তারা অবকাঠামো, উৎপাদন এবং সেবা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

সংলাপে বক্তারা দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রভাব ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ