Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘জি’

আক্রমণাত্মক ফুটবলেই ভরসা বেলজিয়ামের

ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরো প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশটির অবস্থান ৯ম। দলটি তাদের আক্রমণাত্মক খেলা, টেকনিক্যাল দক্ষতা ও দ্রুত পাসিংয়ের জন্য পরিচিত। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিশেলে গড়া দলটি এখনো বড় কোনো শিরোপা না জিতলেও প্রতিটি টুর্নামেন্টেই শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নামে এবং এবারও নামবে।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
বেলজিয়াম বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি দল। ১৯৮৬ সালে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল, যা দীর্ঘদিন তাদের সেরা সাফল্য ছিল। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপে তারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল। ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলার কারণে বেলজিয়ামকে এখন আর আন্ডারডগ বলা যায় না; বরং তারা এখন অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী।

শক্তিমত্তা
বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। দ্রুতগতির উইং প্লে, নিখুঁত পাসিং এবং দূরপাল্লার শটে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ তৈরিতে তাদের দক্ষতা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ডিফেন্স থেকেও দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষমতা রয়েছে দলটির। এছাড়া খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা অনেক বেশি, যা কঠিন মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেট-পিস থেকেও তারা বেশ কার্যকর।

দুর্বলতা
তবে বেলজিয়ামের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। ডিফেন্সে মাঝে মাঝে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়, বিশেষ করে দ্রুতগতির আক্রমণের বিপক্ষে তারা সমস্যায় পড়ে। বয়সী কিছু খেলোয়াড় থাকায় ম্যাচের শেষ দিকে গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া বড় ম্যাচে চাপের মুখে তাদের ধারাবাহিকতা কিছুটা কমে যেতে দেখা গেছে। প্রতিপক্ষ যদি শক্ত রক্ষণ গড়ে তোলে, তাহলে গোল করার সুযোগ তৈরি করতেও তারা কখনো কখনো ভোগান্তিতে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় রয়েছেন। গোলপোস্টে দলের অন্যতম ভরসা থিবো কুর্তোয়া; যিনি স্পেনের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন। ডিফেন্সে বেলজিয়ামের ক্লাব আনদেরলেখট-এর হয়ে খেলা জান ভার্তোঙ্গেন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন। মাঝমাঠে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় কেভিন ডি ব্রুইনা দলের প্রাণভোমরা হিসেবে আক্রমণ গড়ে তোলা ও গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইতালির ক্লাব এএস রোমার সেরা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু বেলজিয়ামের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। গোল করার ও করানোর দারুণ দক্ষতা আছে তার। এছাড়া ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির জেরেমি ডকু এবং ইংল্যান্ডের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ইউরি তিলেমানস দলে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করেন।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলগুলো। প্রতিটি ম্যাচেই তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে হবে। ইউরোপ ও এশিয়ার দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রতিপক্ষের কৌশল ভেদ করতে কৌশলগত বৈচিত্র্য প্রয়োজন হবে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বেলজিয়ামকে এবারের বিশ্বকাপেও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদি তারা তাদের আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এবং ডিফেন্সের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়, তাহলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলগত সমন্বয় ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বেলজিয়াম এবার শিরোপার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ